দলীয় সূত্রের দাবি, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 January 2026 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র (SIR Logical Discrepancies) অজুহাতে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এই দাবিতে গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সঙ্গে দেখা করেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এবার সেই ইস্যুতেই দলের নেতা-কর্মী এবং বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-টুদের (BLA-2) আরও সজাগ করতে আগামী ২২ জানুয়ারি ভার্চুয়াল বৈঠক (Virtual Meeting January 22) ডাকলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee,)।
দলীয় সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল ফোকাস থাকবে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিষয়টি। বিএলএ-টুদের পাশাপাশি দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং কর্মীদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ওয়াকিবহাল করতে চান অভিষেক। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোথায়, কীভাবে নাম কাটার চেষ্টা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, সেই রূপরেখাই তুলে ধরা হবে বৈঠকে।
দলীয় সূত্রের দাবি, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের কাছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নোটিস ধরিয়ে অন্য পথে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের চেষ্টা চলছে। তাই অবিলম্বে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র (logical discrepancies) তালিকা প্রকাশের দাবিতে সরব হয়েছিলেন মমতা-অভিষেক। এ নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলাও গড়িয়েছিল।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে অভিষেকের এই বৈঠক ঘোষণার কিছু পরেই সংশ্লিষ্ট মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'র (logical discrepancies) তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। যা বিজেপি এবং কমিশনকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, গণতান্ত্রিক পথে বাংলার মসনদ দখল করতে না পেরে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ঘুরপথে রাজ্য দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই তাড়াহুড়ো করে এসআইআর-এর নাম করে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে তৃণমূলের দাবি।
গত মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে একটি রহস্যজনক গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কয়েক হাজার এসআইআর-এর ফর্ম-৭। অভিযোগ, প্রায় সব ফর্মই আগেই পূরণ করা ছিল। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই ফর্মগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরব হন মুখ্যমন্ত্রীও।
তৃণমূলের বক্তব্য, শুধু বাঁকুড়া নয়—পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও তমলুক, মালদহের ইংরেজবাজার, হুগলির চুঁচুড়া ও চন্দননগর, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর থেকে কলকাতার জোড়াসাঁকো—প্রায় সর্বত্র একই কায়দায় নাম কাটার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাজ্যের সিইও-র সঙ্গে দেখা করে চার দফা দাবি তুলে ধরে তৃণমূল। এক, একজন ব্যক্তি সর্বাধিক কতগুলি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবেন, তা স্পষ্ট করতে হবে। দুই, হিয়ারিং ক্যাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নথি জমা দিলেও কেন কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না, তার ব্যাখ্যা চাই। তিন, বহু জায়গায় মাইক্রো অবজারভারদের তরফে এআরওদের উপর অনৈতিক চাপের অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে। চার, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।