অভিষেকের অভিযোগ, প্রথমে দিল্লি পুলিশের হেনস্থা, তার পর বিএসএফ-র মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশব্যাক— শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা সয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি। বাংলাদেশের জেলে মাসের পর মাস কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
.jpeg.webp)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনালি খাতুন।
শেষ আপডেট: 6 January 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার বীরভূমের রামপুরহাটে (Rampurhat)) দলীয় কর্মসূচি শেষ করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের মাতৃসদনে গিয়ে সোনালি খাতুন (Sonali Khatun) এবং তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই সোনালি, যাকে বাংলায় কথা বলার ‘দোষে’ বাংলাদেশে পুশব্যাক করার অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশে অবশেষে তাঁর দেশে ফেরা।
এ দিন হাসপাতালের কাচঘেরা করিডরে সব নিয়ম মেনেই প্রবেশ করেন অভিষেক। গাউন, মাস্ক, ক্যাপ— সব পরেই। শিশুটির সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে, তাই বাড়তি সতর্কতা। সোনালি ও তাঁর মায়ের অনুরোধে সদ্যোজাতের নামও রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, “ওরা বললেন নামটা আপনি রাখুন দাদা, তাই এই লড়াইয়ের প্রতীক হোক বাচ্চাটার নাম। আপন। যাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তারা আমাদেরই আপন।”
অভিষেকের অভিযোগ, প্রথমে দিল্লি পুলিশের হেনস্থা, তার পর বিএসএফ-র মাধ্যমে বাংলাদেশে পুশব্যাক— শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণা সয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি। বাংলাদেশের জেলে মাসের পর মাস কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
এখনও দেশে ফিরতে পারেননি তাঁর স্বামী তানিশ শেখ। তিনি জানান, “তানিশের মামলা আজ সুপ্রিম কোর্টে উঠেছিল। কেন্দ্র সময় চেয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ওকে ফিরিয়ে আনব, আইনি লড়াই চলছে।”
অভিষেকের দাবি, “মানুষের চোখের জলের মূল্য দিতে হবে বিজেপিকে। একমাত্র দোষ — বাংলায় কথা বলে। বাবা-মায়ের নাম ভোটার তালিকায়, তবু জোর করে পাঠানো হয়েছিল ওদের। আদালত তার জবাব দিয়েছে।” কয়েক মাস পরে ফের সোনালি ও তাঁর সন্তানের খোঁজ নিতে বীরভূমে আসার আশ্বাসও দেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুনে। দিল্লির রোহিণীতে বসবাসকারী সোনালি ও তাঁর পরিবারকে ১৭ জুন আটক করে পুলিশ। অভিযোগ— তাঁরা বাংলায় কথা বলায় ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ। ২৬ জুন অন্তঃসত্ত্বা সোনালিসহ কয়েক জনকে পুশব্যাক করা হয় বাংলাদেশে। সেখানে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। কাটাতে হয় মাসের পর মাস।
কলকাতা হাইকোর্ট চার সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিলেও কেন্দ্র তা মানেনি। শেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৬ ডিসেম্বর সোনালি ও তাঁর আট বছরের ছেলে ভারতে ফেরেন। তবে এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন চার জন— তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সোনালির স্বামীও। তাঁদের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে মামলাও চলছে সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টে।