কালচিনির মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বীরেন্দ্র বারা জিতলে এবং তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গড়লে দ্রুত হাসপাতাল ও পুরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 26 March 2026 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ জয় করতে এবার উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ আর একগুচ্ছ নতুন প্রতিশ্রুতিকে হাতিয়ার করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বুধবার কালচিনিতে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা রোড-শো শেষে নির্বাচনী জনসভায় (West Bengal Assembly Election 2026) দাঁড়িয়ে বিজেপি-কে (BJP) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বীরেন্দ্র বারাকে জয়ী করলে কালচিনিতে নিজস্ব হাসপাতাল এবং পুরসভা গড়ার ঘোষণা করে ডুয়ার্সের মানুষের মন জয়ের চেষ্টা করলেন তিনি।

উন্নয়নের খতিয়ান বনাম বিজেপির ‘লুট’
এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অভিষেক। ২০১১ সালের পর কালচিনিতে হওয়া ৩,৯৪০ কোটি টাকার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি আমার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছি, মিথ্যে বলি না। যারা ধর্মের রাজনীতি করে, তাদের সাহস থাকলে আমার মতো এখানে দাঁড়িয়ে গত ১২ বছরে মানুষের জন্য কী করেছে তার হিসেব দিক।” চা সুন্দরী প্রকল্প, আইটিআই কলেজ, কিষাণ মান্ডি এবং নিজস্ব ফায়ার স্টেশনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এলাকার বিজেপি প্রার্থীরা মানুষের হকের টাকা আটকে দিল্লিতে চিঠি পাঠায়। এমনকি পিএফ-এর টাকা লুটের অভিযোগ তুলেও গেরুয়া শিবিরকে বিঁধেছেন তিনি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও স্বাস্থ্য সাথী
বিজেপি-র ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর সঙ্গে দিদির ‘স্বাস্থ্য সাথী’র তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, “পাকা বাড়ি বা টিভি থাকলে মোদীর প্রকল্পের সুবিধা মেলে না। কিন্তু স্বাস্থ্য সাথী পায় সবাই। কালচিনির ৭৫ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, ২ লক্ষ ৩৫ হাজার মানুষ পাচ্ছেন বিনামূল্যে রেশন। যদি আমার তথ্য ভুল হয়, তবে আমার বিরুদ্ধে মামলা করুন।”
সীমান্ত সুরক্ষা ও নাগরিকত্ব ইস্যু
এদিনের সভা থেকে বিএসএফ ও জওয়ানদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা জানিয়েও বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন অভিষেক। পহেলগামে জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কীভাবে জঙ্গিরা দেশে ঢুকল? এর দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কি পদত্যাগ করা উচিত নয়?” একই সঙ্গে নাগরিকত্ব প্রমাণের লড়াই নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর আমাদের প্রমাণ করতে হচ্ছে আমরা বাংলাদেশি কি না। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ নিজেই তো বলেছেন দেশের সবথেকে বড় বাংলাদেশি অমিত শাহ।”

খেলার মাঠ ও আগামীর প্রতিশ্রুতি
কালচিনির মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে বীরেন্দ্র বারা জিতলে এবং তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গড়লে দ্রুত হাসপাতাল ও পুরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক। পাশাপাশি ডুয়ার্সের মানুষের ফুটবল প্রেমের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে এখানে তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব’-এর একটি প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে ভোটারদের প্রতি তাঁর বার্তা ছিল স্পষ্ট। বলেন, “ওরা রিমোট টিপে আপনাদের টাকা আটকে দেয়, আপনারা ইভিএম-এর বোতাম টিপে ওদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিন। বিজেপি টাকা দিলে নিয়ে নিন, ওটা আপনাদেরই টাকা। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় জোড়া ফুলেই বোতাম টিপুন।”