সন্দেশখালির মানুষের অভিযোগ ছিল, জোড় করে তাঁদের জমি কেড়ে নেওয়া হত। দিতে না চাইলে জোর করা হত। রাত হলে বাড়ির মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হত তৃণমূল পার্টি অফিসে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 29 March 2026 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: '২৪ সালের পর থেকে ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) সন্দেশখালি শাসক-বিরোধী তরজার অন্যতম ভরকেন্দ্র। রবিবার মুর্শিদাবাদের নওদার নির্বাচনী জনসভা থেকে এসে সেই সন্দেশখালির মাটিতেই দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, ষড়যন্ত্র করে সন্দেশখালিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হয়েছে, আর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ‘পরিযায়ী’ নেতাদের জামানত জব্দ করে তার যোগ্য জবাব দেবে এলাকার মানুষই।
সন্দেশখালির মানুষের অভিযোগ ছিল, জোড় করে তাঁদের জমি কেড়ে নেওয়া হত। দিতে না চাইলে জোর করা হত। রাত হলে বাড়ির মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হত তৃণমূল পার্টি অফিসে। রাতভর রেখে ভোরে ছেড়ে দেওয়া হত। কথা না শুনলে বন্ধ করে দেওয়া হত সরকারি পরিষেবা। অকথ্য অত্যাচার চলত। পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিত না। বিডিও অফিসে গিয়েও কোনও লাভ হত না। আর এই দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরির নিশানায় ছিল শেখ শাহজাহান। সঙ্গে উঠে আসে আরও দু'টি নাম, উত্তর সর্দার আর শিবু হাজরা।
সন্দেশখালি ও ‘স্টিং’ প্রসঙ্গ
এদিন জনসভা থেকে অভিষেক অভিযোগ করেন, দু’বছর আগে পরিকল্পিত ভাবে সন্দেশখালির ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছিল। মহিলাদের সাদা কাগজে সই করিয়ে পরে সেগুলিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে রূপান্তর করার যে তত্ত্বে সরগরম রাজনীতি, এদিন ফের তা মনে করিয়ে দেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “স্টিং অপারেশনে সবটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বিজেপি নেতা গঙ্গাধর কয়ালের কথাতেই স্পষ্ট যে সবটাই ছিল সাজানো চক্রান্ত। আমাদের মা-বোনেদের ওপর মিথ্যে কালিমা লেপে দেওয়া হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, জমি দখলের প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত হয়েছে এবং ইতিমত্যেই ১০০-র বেশি পরিবার তাঁদের জমি ফেরত পেয়েছেন।
বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে তোপ
সন্দেশখালির বিজেপি প্রার্থী সনৎ সর্দারকে ‘পরিযায়ী’ এবং ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ১৫ বছর ধরে সন্দেশখালির সঙ্গে প্রার্থীর কোনও যোগ নেই, তিনি থাকেন বসিরহাটে। এমনকি প্রার্থীর বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ আছে বলেও দাবি করেন তিনি। অভিষেকের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের প্রার্থী এই মাটিরই মেয়ে। তাঁর লক্ষ্য, সন্দেশখালি কেন্দ্র থেকে অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে জয়ী করা।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও ৫ প্রতিজ্ঞা
দিল্লির ‘রিমোট কন্ট্রোল’ রাজনীতির সমালোচনা করে অভিষেক অভিযোগ করেন, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে জল জীবন মিশন ও সর্বশিক্ষার টাকা আটকে রাখা হয়েছে। তবে বঞ্চনার মুখেও তৃণমূলের ‘৫ প্রতিজ্ঞা’র কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ঘরে ঘরে পানীয় জল, দুয়ারে স্বাস্থ্য ক্যাম্প, বার্ধক্য ভাতা এবং সবার মাথার ওপর পাকা ছাদ। কেন্দ্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “টাকা আটকে রাখা হলেও এই সরকারই মানুষের পাকা ছাদের ব্যবস্থা করবে।”