অষ্টমীর দুপুরে দমদমের রাস্তায় এক অন্য ছবি—ভোট, রাজনীতি, ভাষণের বাইরে একেবারে সহজ-সরল অভিষেক; পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন ফুচকার টক-মিষ্টি মুহূর্ত।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 30 September 2025 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অষ্টমীর দুপুর (Durga Puja)। দমদমের (Dumdum) এক পুজো মণ্ডপের বাইরে ভিড় জমেছে সাধারণ মানুষের। আচমকাই সেখানে হাজির তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সঙ্গে তাঁর ছোট্ট মেয়ে। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের পর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। শ্রমিকদের যন্ত্রণা, ভিনরাজ্যে কাজের কষ্ট, সংসারের টানাপোড়েন—সব মন দিয়ে শুনলেন অভিষেক।
শ্রমিকদের উদ্দেশে বললেন, “আমার ফোন নম্বর তোমাদের কাছে আছে। দরকারে সরাসরি ফোন করবে। ভিনরাজ্যে ফেরত যাওয়ার দরকার নেই। আমার ওপর ভরসা রাখো। এখানে খাওয়াদাওয়া, সংসার চালানোয় সমস্যা হবে না। সরকার তোমাদের পাশে আছে।”
কথার মাঝেই খোঁজখবর নিলেন—কার ঘরে কতজন ছেলে-মেয়ে, তারা কী পড়ছে, কোন সরকারি প্রকল্পে সুবিধে পাচ্ছে। আশ্বাস দিলেন, বাকি সুবিধাগুলোও দ্রুত পৌঁছে যাবে। এরপর মেয়েকে নিয়ে অভিষেক সামনের দিকে এগোতেই শ্রমিকদের মধ্যে থেকে কেউ একজন হেসে বললেন, “দাদা, ফুচকা খাবেন?”
মুহূর্তেই হালকা হয়ে গেল পরিবেশ। রাজি হয়ে গেলেন অভিষেক। সঙ্গে মেয়েকে নিয়েই দাঁড়িয়ে পড়লেন ফুচকার লাইনে (Fuchka)। পাশে দল বেঁধে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। চোখের সামনে রাজনৈতিক নেতা নয়, যেন এক সাধারণ বাবা—তেঁতুলজলে ডুবিয়ে ফুচকা মুখে তুলছেন। পাশে ফুচকা খেলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ও। সঙ্গী ছিলেন দলের আর এক সাংসদ পার্থ ভৌমিক, বিধায়িকা-সঙ্গীত শিল্পী অদিতি মুন্সিও।
অভিষেককে ফুচকা খাওয়াতে পেরে খুশি ফুচকা বিক্রেতাও। পরে বললেন, "ওনাকে টিভির পর্দায় দেখি, আজ সামনে থেকে দেখলাম। নিজেকেই এখন সেলিব্রিটি মনে হচ্ছে।"
আর হঠাৎ এই ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়া, মনযোগ দিয়ে সাধারণ মানুষের কথা শোনা, তাঁদের আবদারে রাস্তার মধ্যেই দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া-অভিষেকের এহেন কার্যকলাপের মধ্যে দলের অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে অষ্টমীর দুপুরে দমদমের রাস্তায় এক অন্য ছবি—ভোট, রাজনীতি, ভাষণের বাইরে একেবারে সহজ-সরল অভিষেক; যিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে অবলীলায় ভাগ করে নিলেন ফুচকার টক-মিষ্টি মুহূর্ত।