ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর মা-বাবাও।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজন্যা হালদার।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের আরও এক ‘বড় কেলেঙ্কারি’ প্রকাশ্যে আসতে চলেছে, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Ganguly)। শুধু অভিযোগেই থামেননি তিনি। সেই কেলেঙ্কারি সামনে এলেই রাজ্য সরকারকে (Mamata Banerjee's Government) ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি যে নতুন করে তীব্র হবে, তাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন অভিজিৎবাবু।
রবিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার (Rajnya Haldar) ও শুভঙ্কর হালদারের ডাকা সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, “ফের একটা বড় কেলেঙ্কারি ফাঁস হবে। তারপর টানা ৭২ ঘণ্টা বাংলায় ধর্মঘট ডাকা উচিত (72-hour strike) )। যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন, অথবা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে।”
ওই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর মা-বাবাও। তাঁরাও অভিজিৎবাবুর দাবিকে সমর্থন করেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাংসদের বক্তব্য, এই আন্দোলনে তিনি দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই শামিল হতে চান। প্রয়োজনে কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ছেড়েছেন রাজন্যা ও শুভঙ্কর। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শিক্ষিত বেকারদের ঐক্যবদ্ধ করে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা। রাজন্যার কথায়, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় গিয়ে শিক্ষিত বেকার ছেলে-মেয়েদের মার্কশিটের কপি সংগ্রহ করা হবে। সেই সমস্ত নথি নিয়ে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চাকরির দাবি জানাবেন তাঁরা।
ভোটের মুখে বেকারত্ব ইস্যুকে সামনে রেখে শাসকদলকে কোণঠাসা করাই যে তাঁদের লক্ষ্য, তা গোপন করেননি রাজন্যা। ব্যক্তিগত মানুষ হিসেবে এই আন্দোলনে তিনি পাশে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “এই লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
অভিজিৎবাবুর ‘নতুন কেলেঙ্কারি’ প্রসঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও শাসকদলের পাল্টা বক্তব্য, মিথ্যে অভিযোগ তুলে সস্তার প্রচার পেতেই এমন মন্তব্য করছেন বিজেপি সাংসদ। তৃণমূলের দাবি, “বিজেপির আসল চরিত্র বাংলার মানুষ জেনে ফেলেছে। এ ধরনের অপপ্রচার করে কোনও লাভ হবে না।”