সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন কাঠামো তৈরি হলে কর ফাঁকি থেকে শুরু করে অর্থ পাচার—সব ধরনের আর্থিক অপরাধে একটিমাত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে।
_0.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নজরদারি আরও কড়া। তদন্ত আরও দ্রুত। অর্থনৈতিক অপরাধের জাল ছিঁড়তে এবার বড় রকমের কাঠামোগত বদলের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র (Central Government)।
সরকারি সূত্রের খবর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) এবং আয়কর বিভাগকে (Income Tax,) একত্র করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে প্রশাসনিক মহলে এই আলোচনা যথেষ্ট জোরালো।
আয়কর বিভাগ এবং ইডি—দুটিই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন, কিন্তু কাজের ক্ষেত্র ও আইনি ক্ষমতা আলাদা। আয়কর বিভাগ মূলত কর ফাঁকি, গোপন আয় ও বেআইনি লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত চালায়। অন্যদিকে ইডির কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত—অর্থ পাচার, বিদেশি মুদ্রা আইন লঙ্ঘন, বড় আর্থিক অপরাধ তাদের নজরে আসে। বহু ক্ষেত্রে এই দুই সংস্থার তদন্ত একই সূত্র ধরে এগোয়। ফলে তথ্য আদানপ্রদানে দেরি, সমান্তরাল তদন্ত ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্র ভাবছে, দুটি সংস্থাকে এক ছাতার তলায় এনে একটি শক্তিশালী ‘সুপার ইকোনমিক ইনভেস্টিগেশন বডি’ গঠন করা যায় কি না। এতে একদিকে যেমন ডেটা শেয়ারিং দ্রুত হবে, তেমনই বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে সময় ও জনবল—দু’দিকেই সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন কাঠামো তৈরি হলে কর ফাঁকি থেকে শুরু করে অর্থ পাচার—সব ধরনের আর্থিক অপরাধে একটিমাত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে বেআইনি বিদেশি লেনদেন, বেনামি সম্পত্তি বা ভুয়ো ইনভয়েস সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত ফল মিলতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনা ঘিরে প্রশ্নও কম নয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইডি ও আয়কর বিভাগের ক্ষমতা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং আইনি ভিত্তি আলাদা। একত্রিকরণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে নতুন আইন, সংসদের অনুমোদন এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সংস্কার। পাশাপাশি, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হলে অপব্যবহারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না সমালোচকেরা।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্র যদি এই পথে এগোয়, তবে তা নিঃসন্দেহে ভারতের অর্থনৈতিক তদন্ত ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু সেই পরিবর্তন কতটা কার্যকর, আর কতটা বিতর্কমুক্ত—তা বলবে সময়ই।