
Suvendu Adhikari and Abhijit Gongopadhyay
শেষ আপডেট: 5 March 2024 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় ৯ বছর আগে একটি স্টিং অপারেশন শোরগোল ফেলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূলের কংগ্রেসের ১৩ জন নেতা, মন্ত্রী এবং রাজ্যের পুলিশকর্তাকে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গেছিল। সেই নারদ স্টিং অপারেশনের প্রসঙ্গ আবার উঠে এল ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে। সৌজন্যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেই তিনি বলে দিলেন, নারদকাণ্ড কোনও স্টিং অপারেশন ছিল না, চক্রান্ত ছিল। তৃণমূলের নেতারাও যার শিকার হয়েছেন।
নারদকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একাধিক তৃণমূল নেতাকে এই মামলার তদন্তে তলব করা, জেলে ভরা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সি কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ঠিক এমনই অভিযোগ শাসক দলের। কিন্তু সোমবার পদ্মমুখী প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যা বললেন, তাতে নারদকাণ্ডের দায় সরাসরি গিয়ে পড়ে সেই তৃণমূলেরই ওপর। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে কার্যত ক্লিনচিট দিয়ে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ভিডিওতে যাদের টাকা নিতে দেখা গেছে তারাও ষড়যন্ত্রের শিকার।
মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে হাজারো কথা বললেও তৃণমূলের এক নেতার নাম মুখে আনেননি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুধু এটা জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবারে লড়লে লক্ষ লক্ষ ভোটে হারাবেন বিরোধী প্রার্থীকে। নাম না নিলেও শাসক দলের ওই নেতাকে ‘তালপাতার সিপাই’ বলে বিদ্রুপ করেছেন সদ্য গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানো প্রাক্তন বিচারপতি। নারদকাণ্ড নিয়েও তাঁর নিশানায় আছেই তিনিই। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ''কোনও স্টিং অপারেশন ছিল না। পুরো চক্রান্ত করিয়েছিল তৃণমূলে যাকে তালপাতার সিপাই না সেনাপতি কী বলা হয়, সে। তাঁর খুড়শ্বশুরের কোম্পানি অ্যালকেমিস্টকে সঙ্গে নিয়ে এটা করা হয়েছিল।'' অভিজিতের অভিযোগ, ''ওই তালপাতার সিপাই নেতা নিজে তখন রাজনীতিতে দাঁড়াতে চেয়েছিল, তাই দলের প্রবীণ নেতাদের বদনাম করতে এটা করেছিল।'' তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে এর যোগ অনেক দূরে। আগে চক্রান্ত নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য মনে করছেন বিজেপিতে যোগদানের মুহূর্তেই কিছুটা কাঁচা মন্তব্য করে ফেলেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একদিকে তিনি নারদকাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে চক্রান্তের শিকার বলেছেন ঠিকই, একই প্রেক্ষিতে তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলের নেতারাও আড়াল হয়ে গেছেন! কারণ অভিজিতের কথায় সব নেতারাই নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাহলে এতদিন ধরে নারদকাণ্ড নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে যে সুর চড়াল বিজেপি তার ধার কি ভোঁতা হয়ে গেল, প্রশ্ন থাকছেই।
মনে রাখতে হবে, নারদকর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল ইডি এবং সিবিআই আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে জানিয়েছিলেন, পুরো স্টিং অপারেশনের ফান্ডিং এসেছিল এই অ্যালকেমিস্টের থেকে যা কেডি সিং-এর সংস্থা। কিন্তু প্রাক্তন সাংসদ কেডি সিং নিজে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী নারদকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে দাবি করেছিলেন, তিনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন তাই তাঁকে আর ডাকা হয় না।
নারদকাণ্ডের ভিডিওতে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও টাকা নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মুকুল রায়, রাজ্যের প্রাক্তন প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অপরূপা পোদ্দার, শোভন চট্টোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, প্রাক্তন সাংসদ প্রয়াত সুলতান আহমেদ। এছাড়াও অভিযুক্ত ছিলেন পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জা। ২০১৬ সালে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভিডিও শোরগোল ফেলে দিলেও তৃণমূলের জয় আটকানো যায়নি সেবার।