শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে আন্দোলনের পাঁচদিনের মাথায় সামনে এল আন্দোলনকারীদের মতানৈক্য। এখন পরিস্থিতির জল কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে কৌতূহলী সব মহল।

ব্রাত্য বসু। গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 19 May 2025 21:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) সামনে বৃহস্পতিবার থেকে টানা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা (SSC Deprived Teacher)। সেদিনই চাকরিহারা শিক্ষকদের অধিকার মঞ্চের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, রাজ্য তাঁদেরকে না জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে রিভিউ পিটিশন করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
মঞ্চের তরফে এই অভিযোগও করা হয়েছিল যে, 'সরকার আসলে অযোগ্যদের, যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছে তাদের বাঁচাতে চাইছে। তাই এই অবস্থান।'
আন্দোলনের পাঁচদিনের মাথায় চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশই সেই অভিযোগ খণ্ডন করে দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, "চাকরিহারা শিক্ষকদের সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল আনটেন্টেড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ডব্লুবিইউটিএ) সরকারের আইনি পদক্ষেপকে সমর্থন করছে।" সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
অর্থাৎ বিকাশ ভবনের এই আন্দোলন নিয়ে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যেই যে মতানৈক্য রয়েছে তা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বস্তুত, শিক্ষকদের যে সংগঠনের তরফে শিক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেই সংগঠনের অন্যতম নেতা চিন্ময় মণ্ডল।
তাঁর অবশ্য ব্যাখ্যা, "কিছু মতানৈক্য রয়েছে বলে নতুন মঞ্চ তৈরি হয়েছে। মঞ্চের তরফে সরকারকে বার্তাও দেওয়া হয়েছে। কারণ, আমাদের লক্ষ্য সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই জিতে নিজেদের হকের চাকরি ফিরে পাওয়া।"
সোমবার ব্রাত্য বলেন, চাকরিহারাদের সাত দফা দাবির কথা তিনি সংবাদমাধ্যম মারফত শুনেছেন বটে, কিন্তু কোনও রকম লিখিত দাবিপত্র জমা পড়েনি। বরং আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষক শিক্ষা দফতরে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে রয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, "আমার চোখে সকলেই সমান। কে যোগ্য আর কে অযোগ্য, সেটা তো আমি বেছে দেওয়া তো আমার কাজ নয়। শুনেছি অবস্থানরত শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আছে। কিন্তু সেটা তো লিখিত আকারে জানাতে হবে। সবটাই মৌখিক। বরং ওদেরই আর একটি সংগঠন রাজ্যের আইনি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।"
অর্থাৎ আন্দোলনের শুরুতে চাকরিহারারা সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল, তা একাংশ শিক্ষকই খারিজ করে দিয়েছেন বলে পরোক্ষে বোঝাতে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ব্রাত্য বসুর কথায়, রিভিউ পিটিশনে তাঁদের চাকরি সসম্মানে চাকরিতে ফেরানো, বেতন দেওয়া ইত্যাদি ব্যাপারে সব বলা হয়েছে। ওঁদের বক্তব্য শুনে আইনি পরামর্শ মেনে যা যা করার সবটাই করেছে সরকার। তাই এভাবে বিকাশ ভবনের সামনে বসে সরকারি কাজে বাধা দান না করলেই ভাল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী। তাঁরা সকলেই ২০১৬ সালের এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন। ওই প্যানেলে থাকা দৃষ্টিহীন এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষকেরাও রোববার থেকে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। পাঁচ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের অবস্থান অব্যাহত। স্পষ্ট করে তাঁরা জানিয়ে রেখেছেন, চাকরিতে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এক চুলও নড়বেন না। এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে আন্দোলনের পাঁচদিনের মাথায় সামনে এল আন্দোলনকারীদের মতানৈক্য। এখন পরিস্থিতির জল কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে কৌতূহলী সব মহল।