পরিকল্পনা একটাই—গাছের উপরেই বসবে কবিতা পাঠ ও গানবাজনার আসর।

বটগাছে অনুষ্ঠান মঞ্চ
শেষ আপডেট: 10 January 2026 18:54
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া : গাছ মানেই শুধু ছায়া বা অক্সিজেনের উৎস নয়, গাছ যে সংস্কৃতিরও আশ্রয় হতে পারে, তা প্রমাণ করে চলেছেন বাগনানের অমল মাইতি। গত ১২ বছর ধরে একটি বটগাছকে কেন্দ্র করে এক অভিনব অনুষ্ঠান মঞ্চ তৈরির কাজে নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন তিনি। গাছের ডালপালা আর ঝুড়ি দিয়ে মাকড়সার জালের মতো নকশায় তৈরি হচ্ছে বসার জায়গা। পরিকল্পনা একটাই—গাছের উপরেই বসবে কবিতা পাঠ ও গানবাজনার আসর।
বাগনানের এক গ্রামীণ সড়কের ধারে বাড়ির কাছেই বহু বছর আগে একটি ছোট বটগাছের চারা রোপণ করেছিলেন অমলবাবু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছটি বড় হতে থাকে, ছড়িয়ে পড়ে শাখা-প্রশাখা। তখনই তাঁর মাথায় আসে এক অন্যরকম ভাবনা—এই গাছের উপরেই তৈরি করবেন একটি মঞ্চ। সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু হয় দীর্ঘ পরিশ্রম।
গাছের নীচে বাঁশের কাঠামো তৈরি করে প্রথমে ডালপালাগুলিকে ছাতার মতো আকার দিতে থাকেন। তারপর ঝুড়ি দিয়ে ধাপে ধাপে মাকড়সার জালের আদলে বুনে ফেলতে থাকেন বসার পরিকাঠামো। সবটাই প্রাকৃতিক উপায়ে, গাছের ক্ষতি না করে। পাখি-পশুর বাসস্থান অক্ষুণ্ণ রাখাই তাঁর প্রথম শর্ত।
ইলেকট্রিকের কাজ করেন অমল মাইতি। কাজের ফাঁকে সময় বের করে লেখালেখি করেন, স্বরচিত কবিতা পাঠও করেন। তিনি বলেন, "গাছ বড় হওয়ার পর অনেকেই ডাল কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে মতবিরোধও হয়েছে। কিন্তু কাউকেই গুরুত্ব দেইনি। নিজের লক্ষ্যে অটল থেকেছি।"
শুধু গাছ নয়, গাছের পাশেই থাকা একটি পুকুরও নিজের খরচে পাড় বাঁধিয়ে দিয়েছেন অমলবাবু। এখন বটগাছটির রূপ দেখে প্রশংসায় মুখর গ্রামের মানুষ। গরমের দিনে বহু পথচারী এসে এই বটগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে একটু নিঃশ্বাস নেন। সেটাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে জানান অমলবাবু। বললেন, "আমার স্বপ্ন, একদিন সবুজের চাদরে মোড়া এই বটগাছের উপরে বসবে কবিতা পাঠ ও গানবাজনার আসর। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া সেই মঞ্চে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা এক অন্যরকম রোমাঞ্চ অনুভব করবেন।"
তবে তাড়াহুড়ো নেই। তাঁর অনুমান, আরও প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে পুরো কাঠামো সম্পূর্ণ হতে। তারপর বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে ডালপালাগুলি কতটা ভার বহন করতে পারবে। সব দিক সুরক্ষিত হলেই শুরু হবে গাছের উপর অনুষ্ঠান। অমল মাইতির এই কীর্তি শুধু প্রতিবেশীদের নয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে। প্রকৃতিকে সঙ্গী করে সংস্কৃতি চর্চার এমন ভাবনা আজ সত্যিই বিরল।