প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গেছিল, মাথায় গুলি করেই বিজয়কৃষ্ণকে খুন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) ২০২৪-এ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ময়নার বিজেপি নেতা বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার হত্যাকাণ্ডে তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA arrested TMC worker)। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থানা এলাকার দশগ্রাম থেকে অভিযুক্ত স্বপন ভৌমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে (Swapan Bhowmick arrested)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
২০২৩ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের ময়না এলাকার বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পরিবার ও বিজেপির (BJP) অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁকে প্রথমে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং পরে বোমা ও গুলি করে হত্যা করে। ঘটনা সামনে আসতেই সেইসময় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে বিজেপি জোরদার বিক্ষোভে নেমেছিল। ময়না থানার সামনে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘেরাও ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছিল।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা গেছিল, মাথায় গুলি করেই বিজয়কৃষ্ণকে খুন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) ২০২৪-এ দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় NIA-র হাতে। তবে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তবে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি, এবং এনআইএ-কেই তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার রায় বহাল রাখে।
ঘটনার পর মৃতের স্ত্রী এফআইআর-এ অন্তত ৩০ জনের বেশি তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। তার ভিত্তিতে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তবে স্বপন ভৌমিক দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন, অবশেষে তাঁকেও ধরতেও সফল হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
তদন্তে নেমেই নিহত বিজেপি নেতার গ্রামে গিয়েছিল তদন্তকারীদের একটি দল। টানা পাঁচদিন সেখানেই ক্যাম্পে থেকেছিল তারা। মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং এলাকাবাসীদের অভিযোগ শোনা- বিজেপির দাবি ছিল-জোর গতিতে তদন্ত করছে এনআইএ। সেইসময়েই ধৃতদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।