প্রথম দিন থেকেই পুজো হয় কাঠের কাঠামোর ওপর তৈরি প্রতিমার সামনে। ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের চাঁদায় মন্দিরটি তৈরি হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২৫ ফুটের বেশি উচ্চতার কালী প্রতিমার আরাধনা হয় (Raninagar Char Durgapur Kalipuja) ।
.jpg.webp)
চর দুর্গাপুরে বারকালী
শেষ আপডেট: 9 December 2025 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রানিনগরের সীমান্ত ঘেঁষা চর দুর্গাপুরে (Raninagar Char Durgapur Kalipuja) আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বারকালী কালীপুজো (Barkali Kalipuja)। স্থানীয়দের কাছে এটি 'মানতকালীর পুজো' (Manatkali Puja) নামেও পরিচিত। অমাবস্যা বা পূর্ণিমা অনুযায়ী নয়, বরং অগ্রহায়ণ মাসের একটি নির্দিষ্ট মঙ্গলবার এই পুজোর আয়োজন হয়। পুরো গ্রাম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে, মেলার আয়োজন করা হয়, আর বছরের এই সময়ে চর দুর্গাপুর হয়ে ওঠে মিলনক্ষেত্র।
পুজোয় প্রায় ছ’শোর কাছাকাছি ছাগ বলি হওয়ার কথা রয়েছে। মন্দিরের পৃষ্টপটে বসানো হয়েছে মেলার বিশেষ যন্ত্র, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোর ইতিহাস তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) টলটলি গ্রামের সঙ্গে জড়িত। লোকমুখে শোনা যায়, দেশভাগের আগে সেই গ্রামের হিন্দুরা এই পুজো শুরু করেছিলেন। স্বাধীনতার পরে তারা ভারতে এসে রানিনগরের চর দুর্গাপুরে পুজোটি পুনরায় চালু করেন।
প্রথম দিন থেকেই পুজো হয় কাঠের কাঠামোর ওপর তৈরি প্রতিমার সামনে। ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের চাঁদায় মন্দিরটি তৈরি হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২৫ ফুটের বেশি উচ্চতার কালী প্রতিমার আরাধনা হয় (Raninagar Char Durgapur Kalipuja) । পুজো কমিটির সদস্য বিমল মণ্ডল জানিয়েছেন, এবার ৪২টি মানতের কালী প্রতিমার পুজো অনুষ্ঠিত হবে।
বারকালী (Barkali) নামকরণের পেছনেও রয়েছে বিশেষ কারণ। অন্যান্য কালীপুজো সাধারণত অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথি অনুযায়ী হলেও, বারকালী পুজো অগ্রহায়ণ মাসের শেষ মঙ্গলবারে হয়। এছাড়া বিসর্জনও একই মাসের মধ্যে দিতে হয়। এবার অগ্রহায়ণ মাসের শেষ মঙ্গলবার ২৯ তারিখে পুজো হওয়ার কথা ছিল। তবে বিসর্জন চারদিন পরে হলে নতুন মাসে পড়ার কারণে পুজোর তারিখ পরিবর্তন করে অগ্রহায়ণ মাসের তৃতীয় মঙ্গলবার করা হয়েছে।
এ ধরনের আয়োজন কেবল ধর্মীয় তা নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বারকালীর পুজো চর দুর্গাপুরের মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া উৎসবে সারা গ্রামজুড়ে আয়োজন থাকে খাবার, মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, যা দর্শনার্থীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
এই শতাব্দীপ্রাচীন উৎসব এলাকার মানুষের মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। চারদিন ধরে চলা এই বারকালীর পুজো শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।