শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিটি বাণী আমাদের মনকে স্পর্শ করে, আমরা তাঁর উপদেশ মেনে চলার চেষ্টা করি। তবে অনেক সময়ই এমন হয় যে তাঁর অত্যন্ত সহজভাবে বলা কথাও আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। যেমন 'টাকা মাটি, মাটি টাকা'-এই উক্তিটি আমরা সকললেই জানি, কিন্তু ঠাকুর ঠিক কী বলতে চেয়েছেন আমরা বুঝতে পারি না। ঠাকুর কি তাহলে অর্থসম্পত্তি জমিজায়গা সব ছেড়ে আমাদের সন্ন্যাসী হতে বলেছেন?

'টাকা মাটি, মাটি টাকা'-এই উক্তিটির আসল মানে কী? বুঝিয়ে বললেন স্বামী কমলাস্থানন্দজি মহারাজ
শেষ আপডেট: 1 December 2025 16:05
শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতিটি বাণী আমাদের মনকে স্পর্শ করে, আমরা তাঁর উপদেশ মেনে চলার চেষ্টা করি। তবে অনেক সময়ই এমন হয় যে তাঁর অত্যন্ত সহজভাবে বলা কথাও আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। যেমন 'টাকা মাটি, মাটি টাকা'-এই উক্তিটি আমরা সকললেই জানি, কিন্তু ঠাকুর ঠিক কী বলতে চেয়েছেন আমরা বুঝতে পারি না। ঠাকুর কি তাহলে অর্থসম্পত্তি জমিজায়গা সব ছেড়ে আমাদের সন্ন্যাসী হতে বলেছেন?
প্রশ্নটি স্বামী কমলাস্থানন্দজি মহারাজের (রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজের অধ্যক্ষ) কাছে রাখতেই তিনি বুঝিয়ে বললেন ঠাকুরের এই উক্তির তাৎপর্য। তিনি বললেন, 'ঠাকুর অত্যন্ত বাস্তববাদী ছিলেন। তাঁর গৃহী ভক্তদের কখনও 'টাকা মাটি' ছেড়ে সন্ন্যাসী হতে বলেননি। আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে ঠাকুর ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই কথা বলেছিলেন। শ্রীম-র 'কথামৃত'তে আমরা এই ঘটনার বিবরণ পাই। ঠাকুর দক্ষিণেশ্বরের পঞ্চবটিতে ধ্যানে বসেছিলেন। ধ্যান শেষে এক হাতে মাটি অন্য হাতে টাকা নিয়ে গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এই অদ্ভুত শব্দবন্ধটি উচ্চারণ করেছিলেন।
আমাদের ভেবে দেখতে হবে ঠাকুর কিন্তু অন্য কোথাও নয়, টাকা ও মাটি বিসর্জন দিয়েছিলেন গঙ্গায়। আমাদের ঐতিহ্য ও পরম্পরা অনুযায়ী গঙ্গার জল পবিত্র। যা কিছু অশুভ অপবিত্র তা গঙ্গাজলের স্পর্শে পবিত্র হয়ে যায়। ঠাকুর গঙ্গাজলকে বলতেন ব্রহ্মবারি। টাকা ও মাটিকে ব্রহ্মবারিতে বিসর্জন দিয়ে তিনি পার্থিব যা কিছু তার নেতিবাচক দিকটি গঙ্গার পবিত্রজলে ধুয়ে নিতে বলেছেন।'
জীবনে চলতে গেলে অর্থ অবশ্যই প্রয়োজন। কারণ সারা পৃথিবীতে পার্থিব যা কিছু তার বিনিময় হয় অর্থ দিয়ে। গৃহী মানুষকে খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। ঠাকুর বারবার আমাদের এই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন 'কাঞ্চনই সব অনর্থের মূল।' আবার মাটি অর্থাৎ জমিজায়গার ক্ষেত্রেও তাই। ভাইয়ে ভাইয়ে মনোমালিন্য, প্রতিবেশির সঙ্গে বিবাদই শুধু নয়, দেশ রাষ্ট্র সর্বত্র যত হানাহানি তার মূলে কিন্তু এই 'মাটি'। তাই ঠাকুর গঙ্গার জলে ধুয়ে নিতে বলেছেন টাকা ও মাটির নেতিবাচক দিকগুলো। তবেই সংসার, দেশ, রাষ্ট্র শান্তিতে ভরে উঠবে।
স্বামী কমলাস্থানন্দজি মহারাজের আলোচনা থেকে যা বোঝা গেল তা হল-
• 'কথামৃত'তে ঠাকুরের এই 'টাকা মাটি ,মাটি টাকা' উক্তির কথা রয়েছে।
• পঞ্চবটিতে বসে ঠাকুর টাকা ও মাটি দু'হাতে নিয়ে গঙ্গায় বিসর্জন দিয়েছিলেন।
• গঙ্গার পবিত্র জলকে শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন ব্রহ্মবারি।
• ঠাকুর বলতেন 'কাঞ্চনই সব অনর্থের মূল' ।
• ঠাকুর বাস্তববাদী, 'টাকা' 'মাটি' সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে বলেননি।
• গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে বুঝিয়েছেন 'টাকা মাটি'কে পবিত্র করে নিতে হবে।
• নেতিবাচক দিক বিসর্জন দিয়ে পবিত্র করে নিতে হবে পার্থিবকে।