রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেঁকে বসেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের ভেদুয়াশোল ও মুচিকাটা গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৭৯ জন জনজাতি ভোটার। তাঁরা দাবি করতে থাকেন তাঁদের প্রতি সরকার লাগাতার বঞ্চনা করায় তাঁরা আর ভারতের নাগরিকত্ব রাখতে চান না।

শেষ আপডেট: 5 December 2025 18:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: সারা রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শেষের মুখে। তার মাঝেই তাল কাটল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের একাধিক গ্রামে। ওই গ্রামগুলির ৭৯ জন জনজাতি ভোটার তাঁদের প্রতি লাগাতার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এসআইআর ফর্ম পূরণ করতে অস্বীকার করেছেন। অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকারে আস্থা প্রকাশ করে তাঁদের দাবি ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনও দায় তাঁদের নেই।
রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শুরু হতেই বেঁকে বসেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের ভেদুয়াশোল ও মুচিকাটা গ্রামে বসবাসকারী প্রায় ৭৯ জন জনজাতি ভোটার। তাঁরা দাবি করতে থাকেন তাঁদের প্রতি সরকার লাগাতার বঞ্চনা করায় তাঁরা আর ভারতের নাগরিকত্ব রাখতে চান না। তাঁদের যুক্তি, জনজাতিরা এই দেশের জল,জমি ও জঙ্গলের মালিক। অন্যরা বহিরাগত। তাই দেশের নগরিক হিসাবে এনুমারেশান ফর্ম পূরণের মাধ্যমে অন্যদের নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় থাকলেও তাঁদের নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনও দায় নেই। এই দাবিকে সামনে রেখে অন্ত:রাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার নামের একটি ব্যবস্থার উপর আস্থার কথা জানিয়ে ওই ভোটাররা নিজেদের এনুমারেশান ফর্ম নিতে অস্বীকার করেন।
বিষয়টি জানার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও প্রশাসন। নরমে গরমে ওই ভোটারদের বুঝিয়ে এনুমারেশান ফর্ম পূরণ করানোর চেষ্টা শুরু হয় প্রশাসনের তরফে। এনুমারেশান ফর্ম পূরণ না করলে আগামীদিনে সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বাদ পড়ার কথাও জানানো হয়। কিন্তু তারপরেও ওই ভোটাররা এনুমারেশান ফর্ম পূরণের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান বদল না করায় গতকাল সন্ধ্যায় গ্রামগুলিতে গিয়ে তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন পুলিশ আধিকারিকরা। কিন্তু তারপরেও তাঁদের মত বদল হয়নি।
ওই তিন গ্রামের ক্ষুব্ধ ৭৯ জন ভোটারের দাবি এমনিতেও সব ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত। গ্রামবাসী সুরেখা মুর্মু, সঞ্জিত মুর্মুরা বলেন, "রেশন থেকে বিনামূল্যে পাওয়া চাল ছাড়া আর কোনও সুবিধাই আমরা পাই না। সেদিকে এতদিন প্রশাসনের কোনও নজর ছিল না। আজ এসআইআর ফর্ম পূরণ না করাতে প্রশাসনের ঘুম ভেঙেছে।"
জনজাতিদের ওই শ্রেণিকে ভুল বুঝিয়ে এমনটা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের এসটি সেলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গঙ্গারাম মুর্মু বলেন, "যারা এই মানুষগুলিকে ভুল বোঝাচ্ছেন, তাঁরা দেশ বিরোধী। আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ করবে।" বিজেপি নেতা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকারও জনজাতিদের ওই ভোটারদের এসআইআর ফর্ম পূরণ না করার সিদ্ধান্তকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন।