পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রণদীপবাবুর জন্ম বাংলাতেই। কিন্তু তাঁর বাবা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। যে কারণে এনআরসি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন।

মৃত প্রণদীপ কর।
শেষ আপডেট: 28 October 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) নির্দেশে মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই এনআরসি (NRC) আতঙ্কে ভুগছিলেন পানিহাটির (Panihati) মহাজ্যোতি নগরের বাসিন্দা প্রণদীপ কর (৫৭)। বুধবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতদেহের পাশেই মেলে একটি চিরকুট, তাতে লেখা, “আমার মৃত্যু এনআরসির জন্য।”
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রণদীপবাবু দীর্ঘদিন ধরেই এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। পরিবারের বক্তব্য, গতকাল নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার পর থেকেই তিনি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। ভেবেছিলেন, এনআরসি প্রক্রিয়া শুরু হলে হয়তো নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতায় পড়তে পারেন। রাতে খাওয়ার পর ঘুমোতে যান। সকালে বারবার ডাকার পরও দরজা না খোলায়, পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মৃতের একটি পুরনো ডায়েরিতেও এনআরসি নিয়ে উদ্বেগের কথা লেখা ছিল। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি মুরলিধর শর্মা বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।”
পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রণদীপবাবুর জন্ম বাংলাতেই। কিন্তু তাঁর বাবা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। যে কারণে এনআরসি নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন।
ঘটনাটি সামনে আসতেই চরমে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন প্রণদীপবাবুর মৃত্যুর জন্য। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একধাপ এগিয়ে তোপ দেগেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।
অভিষেকের তীব্র প্রশ্ন, “প্রণদীপ করের মৃত্যুর দায় কি অমিত শাহ আর জ্ঞানেশ কুমারের নয়? তাহলে ওদের নামে এফআইআর হবে না কেন?” খানিক থেমে তাঁর সংযোজন, “আর কত রক্ত চান জ্ঞানেশ কুমার? আর কত রক্ত চান অমিত শাহ? এদের তৈরি আতঙ্কে মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ এদের কিছু যায় আসে না।”
অন্যদিকে পানিহাটি কাণ্ডের জন্য রাজ্যের শাসকদলকেই দায়ী করেছে বিজেপি। বিজেপির শিশির বাজোরিয়া (Sisir Bajoria) স্পষ্ট বলেন, তৃণমূলের সুর পাল্টে গেছে। এনআরসি-র জুজু তারাই দেখিয়েছে, তাই ওই ব্যক্তির আত্মহত্যার জন্য মুখ্যমন্ত্রীই দায়ী। শিশিরের কটাক্ষ, তৃণমূল নিজে মানছে এবার হেরে ভূত হবে। তাই এসআইআরকে ভয় পাচ্ছে।
সবমিলিয়ে প্রণদীপ করের মৃত্যুর পর এনআরসি ইস্যুতে ফের নতুন করে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি— একদিকে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে দায়-দায়িত্বের রাজনীতি ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনার বহর।