নামী ফোনের কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ওই তরুণীদের।

এনজেপিতে উদ্ধার ৫৬ জন তরুণী
শেষ আপডেট: 23 July 2025 13:10
বরাত জোরে বেঁচে গেলেন ৫৬ জন তরুণী। ভাগ্যিস চেকার তৎপর হয়েছিলেন। সোমবার রাতে এক সঙ্গে এই ৫৬ জন তরুণী পাচার হওয়ার আগেই শিলিগুড়ির এনজেপি স্টেশনে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। এরপরেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের।
নামী ফোনের কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ওই তরুণীদের। কিন্তু বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে এনে তাদের তোলা হয় এনজেপি-পাটনা ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসে। আশ্চর্যজনকভাবে যুবতীদের কারও কাছেই কোনও টিকিট ছিল না। তাদের প্রত্যেকের হাতেই একটি করে সিল ও সিট নম্বর লেখা ছিল।
টিকিট পরীক্ষা করতে এসে চেকারের সন্দেহ হয়। একটি বগিতে এতগুলো তরুণী এবং তাদের কাছে কোনও টিকিট নেই। তারা জানায় বেঙ্গালুরু যাবে কিন্তু উঠেছে পাটনার ট্রেনে। তারপরেই তৎপর হন তিনি। অন্যদিকে সোমবার সকালেই ভিনরাজ্যে মহিলাদের পাচার করা হতে পারে বলে খবর এসেছিল রেল পুলিশের কাছে। তারপরেই যৌথভাবে অভিযান চালায় জিআরপি ও আরপিএফ।
ওই ৫৬ জন যুবতীকে ট্রেন থেকে নামানো হয়। রেল পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, তাদের বেঙ্গালুরুতে ফোন কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে ট্রেনে বসানো হয়েছে। কিন্তু তারা যে পাটনার ট্রেনে বসে রয়েছে সে বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নেই। এটা নারী পাচারের অন্যতম ছক বলে মনে করছে রেল পুলিশ। ঘটনায় দুজনের নাম উঠে আসে।
ওই তরুণীরা পুলিশকে জানায় , জীতেন্দ্র পাসওয়ান ও চন্দ্রিকা নামে দুজন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এদের মধ্যে জীতেন্দ্র কলকাতার বাসিন্দা ও চন্দ্রিকা শিলিগুড়ির। তারাও ওই একই ট্রেনে ছিল। তাদের আটক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসবাদ করে পুলিশ। তাদের কাছে নথি দেখতে চাইলে তারা কোনও নথি দেখাতে পারেনি বলে পুলিশের দাবি। পরে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। ৫৬ জন তরুণীকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।