২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। তার আগে যে ভাল করে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সেটা রাজনীতিতে ময়দানে সুস্পষ্ট।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 09:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেনে চড়ে এল ৫৫ টি বাইক, সবগুলিতেই রয়েছে বিহারের নম্বর (bikes with bihar number plates in bengal)। বর্ধমানে বিজেপি নেতার নামে এল এই বিপুল সংখ্যক দু'চাকার গাড়ি। সেই নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল (TMC)।
তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার কথায়, '৫৫টি দু'চাকার গাড়ি এসেছে। বিহার ভোটে (Bihar vote) বাইকগুলি কাজে এসেছে, এবার বাংলার ভোটেও লাগাবে। আজ বাইক এসেছে, কাল গুন্ডা আসবে, পরশু বন্দুক আসবে।'
পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি (BJP)। এক নেতার কথায়, 'বাইকগুলি কর্মীদের ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে। কারও একজনের নামে আনাতে হতো, তাই আমাদের এক নেতার নামে আনানো হয়েছে।'
২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। তার আগে যে ভাল করে কোমর বাঁধছে বিজেপি, সেটা রাজনীতিতে ময়দানে সুস্পষ্ট। ২০ তারিখই বাংলায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কুয়াশার কারণে মোদীর কপ্টার নামতে ব্যর্থ হয় তাহেরপুরে। তাই তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় দমদমে (Dumdum)। দৃশ্যমানতার উন্নতি হলে তিনি কপ্টারে তাহেরপুর যাবেন বলে মনে করা হয়েছিল। তবে সড়কপথেও প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে যেতে পারেন, এই সম্ভাবনাও ছিল। শেষ পর্যন্ত, দমদম বিমানবন্দর থেকে ভার্চুয়ালি সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সেই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা বলেন, ''উনি কৃষ্ণনগরেও নামতে পারতেন। তবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিধানে কৃষ্ণনগর নেই, কৃষ্ণগড় আছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যদি কোথাও উপস্থিত না হতে পারেন, তাহলে 'পালিয়ে যাওয়া' বলা হয় এবং পদত্যাগ দাবি করা হয়। আজ প্রধানমন্ত্রী যে পৌঁছতে পারলেন না, তিনজন মানুষ মারা গেলেন, তাহলে তিনিও কি পদত্যাগ করবেন? মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দিকে যাঁরা আঙুল তুলেছেন, এক্ষেত্রে আমরা ধিক্কার জানাই।''
শুধু তাই নয়, এয়ার পোর্টে বসে কি রাজনৈতিক সভা করা যায়, সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে চন্দ্রিমা বলেন, ''এটা (বিমানবন্দর) তো কেন্দ্রের জায়গা। এই কাজের জন্য তাঁর পদত্যাগ করা উচিত নয়? কিন্তু উনি তো সাংবাদিকদের মুখোমুখি বসবেন না। আমরা বলছি এই কথাগুলো আপনারা তুলে ধরুন। মানুষ এমনিও বুঝছেন।''
বিধানসভা ভোটের আগেই প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন যে বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ সেটা তো স্পষ্ট হয়েই গিয়েছিল। সেই রেশ ধরে মমতাবালা ঠাকুর সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ''মতুয়াদের উদ্দেশে এতদিন নাগরিকত্বের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ওরা দিয়েছিল। মতুয়াদের দেওয়ার মতো কিছুই প্রধানমন্ত্রীর নেই, বরং যা ছিল তা কেড়ে নিয়েছে। যেটুকু ভোটার অধিকার তাঁরা পেয়েছিলেন সেটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মিথ্যে, ভাঁওতা দিয়ে মতুয়াদের থেকে ভোট নিয়েছে।''