পলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম শামিম আলি মোল্লা (৫)। ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর থানার বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মোজাম আলি ওরফে পুষির তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শামিম। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারত না।

শেষ আপডেট: 27 November 2025 19:10
অভিভাবকদের অসতর্কতায় প্রাণ গেল পাঁচ বছরের এক শিশুর। সাপ তাড়াতে বাড়ির আশপাশে বোতলে ভরে রাখা হয়েছিল কার্বলিক অ্যাসিড। আর খেলতে খেলতে ঠান্ডা পানীয় ভেবে সেই অ্যাসিড খেয়ে ফেলে ছোট্ট শামিম আলি মোল্লা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ভাঙড় থেকে প্রথমে জিরেনগাছা ব্লক হাসপাতালে এবং পরে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার গভীর রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় ওই শিশুর।
পলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম শামিম আলি মোল্লা (৫)। ভাঙড়ের উত্তর কাশীপুর থানার বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা মোজাম আলি ওরফে পুষির তিন সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শামিম। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারত না।
স্থানীয় সূত্রের খবর, মোজামের প্রতিবেশী কুদ্দুস আলমের বাড়ি ও দোকানে বেশ কিছুদিন ধরেই সাপ ঢুকে পড়ছিল। সেই কারণে তিনি চারদিকে কার্বলিক অ্যাসিড ভরে কয়েকটি বোতল রেখে দেন। মঙ্গলবার দুপুরে মোজামের ছোট ছেলে শামিম খেলতে খেলতে সেই বোতলটি হাতে পায়। ঠান্ডা পানীয় ভেবে মুখে তুলতেই কিছুক্ষণের মধ্যে অচৈতন্য হয়ে পড়ে সে। প্রথমে পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতেই পারেননি।
পরে ঘটনা জেনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। তড়িঘড়ি ওই শিশুকে জিরেনগাছা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু ডাক্তারদের সব চেষ্টা শেষমেশ ব্যর্থ হয়। বুধবার গভীর রাতে চিত্তরঞ্জন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শিশুটির। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে শামিমের পরিবার। বাবা মোজাম আলি বলেন, “এইভাবে আমার ছেলেকে হারাতে হবে, কখনও ভাবিনি।” ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে প্রশ্নের মুখে পড়লেও কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রতিবেশী কুদ্দুস আলম।