ঝিকুড়খালি নদীর ধারে ইটভাটায় দেহ পোড়ানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সাদ্দামের একসময়ে মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে মেয়েকে বিয়েও করেন তিনি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 August 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা ও মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন (Mother-Daughter Death) এবং দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পাঁচ বছর পর দোষীদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করল আদালত। পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক জেলা আদালত শনিবার চার অভিযুক্ত - সাদ্দাম হোসেন, মঞ্জুর আলম মল্লিক, শুকদেব দাস ওরফে শিবু এবং আমিনুর হোসেন ওরফে সিন্টুকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের (Lifeimprisonment) নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত তাঁদের জরিমানাও করেছে।
সরকারি আইনজীবী স্বপনকুমার পাঠক জানান, দীর্ঘ পাঁচ বছরের শুনানিতে ৪৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রমাণ হয়, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সাদ্দাম খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রমা দে ও তাঁর মেয়ে রিয়া দে ওরফে জেসিকাকে অচেতন করে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর তাঁদের দেহ একটি ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
এই নৃশংস ঘটনাটি সামনে আসে পরদিন ভোরে, যখন হলদিয়ার (Haldia Incident) ঝিকুড়খালি নদীর ধারে ইটভাটায় দেহ পোড়ানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সাদ্দামের একসময়ে মায়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে মেয়েকে বিয়েও করেন তিনি। কিন্তু সেই ‘জটিল’ সম্পর্ক থেকে বেরোতে গিয়েই খুন করেন দু’জনকে।
আদালত অভিযুক্তদের ৩০২ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেছে। জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ডও ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, ‘‘এই মামলায় পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল জানাব আমরা।’’ এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলেই মনে করছে তাদের আইনজীবী ও তদন্তকারী সংস্থা।