দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় এক সপ্তাহ পরে অপহরণ করা ৩৪৪ স্কুলছাত্রকে মুক্তি দিল নাইজেরিয়ার দুষ্কৃতীদল। সরকারি সূত্রের খবর, বোকো হারাম জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে এখনও আর কোনও ছাত্র বন্দি হয়ে আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।
যদিও মুক্তি পাওয়া ছাত্ররা এখনও বাড়ি এসে পৌঁছয়নি। তাদের জামফারা প্রদেশের সাফে টাউনে এনে রাখা হয়েছে মুক্তি পাওয়ার পরে। ক্যাটসিনা প্রদেশের কাঙ্কারা শহরের একটি স্কুল থেকে গত শনিবার অপহৃত হয় তারা। দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায় অভিভাবকদের মধ্যে। অভিযোগ ওঠে সরকারি গাফিলতিরও। শেষমেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন সকলে।

প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ বুহারি টুইট করে লিখেছেন, "সারা দেশের জন্য আজ স্বস্তির দিন। প্রতিটি বাচ্চার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হবে বাড়ি ফেরার আগে।"
তবে ঠিক কতগুলি ছাত্র অপহৃত হয়েছিল, সেই সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয় কারও কাছে। বৃহস্পতিবার বোকো হারামের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিওয় দেখা যায়, এক ছাত্র বলছে, তাদের ৫২০ জনকে অপহরণ করে এনে রাখা হয়েছে। সে কথা সত্যি হলে, ৩৪৪ জন মুক্তি পাওয়ার পরেও বেশ কিছু ছাত্র অপহৃত থেকে যাবে। সকলে ফিরে এসে তাদের গুনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিলে তবেই আসল সংখ্যা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

গত সপ্তাহের শেষে নাইজেরিয়ার ক্যাটসিনা প্রদেশের কাঙ্কারা শহরের একটি স্কুলের মধ্যে হামলা চালিয়ে কয়েকশো ছাত্রকে অপহরণ করে বন্দুকবাজের দল! এই ঘটনায় শোকে-আতঙ্কে বিহ্বল হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। জানা যায়, কাঙ্কারার ওই স্কুল থেকে ছাত্রদের যারা অপহরণ করেছে তাদের সঙ্গে গুলি যুদ্ধ চলেছে সেনার। ছাত্রদের উদ্ধার করার সবরকম চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সশস্ত্র এই দুষ্কৃতীদের উৎপাত এই প্রথম নয়। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়া এলাকায় এই দুষ্কৃতীরা প্রায়ই আক্রমণ করে সাধারণ মানুষদের। চুরি, ছিনতাই, অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়া-- এসব ঘটেই থাকে।

অভিযোগ ওঠে, বেশ কয়েক মাস ধরেই নাইজেরিয়ায় এই ধরনের অশান্তি বাড়ছে। আফ্রিকার সবচেয়ে ঘনবসতি এই শহরে যেন বাড়ছে কট্টরপন্থী ইসলামিস্ট জঙ্গিদের উৎপাত, তেমনই বাড়ছে আরও নানা অপরাধ। বাড়ছে হানাহানি, খুনখারাপি। সরকারের পর্যাপ্ত নজর নেই বলেই অভিযোগ সাধারণের।