মহদিপুরের এক রফতানিকারকের ক্ষোভ, “আমরা অর্ডার পেয়ে নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনালাম। হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা! বন্দর সংলগ্ন গুদামে মজুত করতেই হল। এখন পচে যাচ্ছে। ছ’টাকা কেজিতে বিক্রি করছি বাধ্য হয়ে। চার লরি পেঁয়াজ আনিয়েছিলাম—ভারি ক্ষতি হল।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 08:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) পেঁয়াজের (onions) দাম ছুঁয়েছে কিলো-পিছু প্রায় ১০০ টাকা। অথচ ভারত থেকে অর্ধেক দামে পেঁয়াজ আমদানির পথে আচমকা ব্রেক টেনে ধরল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আর এই সিদ্ধান্তেই সীমান্ত জুড়ে নিঃশব্দ বিপর্যয়—মহদিপুর থেকে হিলি পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পড়ে রয়েছে গুদামে, লরিতে… আর জমে জমে নষ্ট হচ্ছে।
অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বিরোধী মনোভাব দেখাচ্ছেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অন্দরে আগেই উঠেছিল। এবার সেই অভিযোগ আরও জোরালো। কারণ বাংলাদেশে পেঁয়াজের আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানিতে সোজাসুজি নিষেধাজ্ঞা। ফলে ক্ষতি শুধু বাংলাদেশি ক্রেতাদের নয়, বিপাকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নিশ্চিত বার্তা পেয়ে আগেভাগে নাসিক থেকে পেঁয়াজ কিনে এনে সীমান্তে মজুত করেছিলেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। কিন্তু আচমকা নিষেধাজ্ঞার দৌলতে সেই সমস্ত পেঁয়াজ এখন গুদামে পচতে শুরু করেছে। মহদিপুর, হিলি, সোনা মসজিদ—সব সীমান্তেই একই ছবি।
গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশের সোনা মসজিদ আমদানি–রফতানিকারক গ্রুপ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কিছুদিন ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ভারতীয় পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রথমে কিছু আমদানিকারককে ৫০ টন, পরে আরও কয়েকজনকে ৩০ টন করে আইপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পুরো প্রক্রিয়াই থামিয়ে দেয় ইউনূস প্রশাসন। সাফ দাবি—দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় নাকি উদ্দেশ্য।
তবে রফতানিকারকদের বক্তব্য অন্য। বছরের এই সময় বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। প্রতিদিন ৩০-৩৫ লরি পেঁয়াজ যায় সে দেশে। ফলে ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই মজুত করেছিলেন পণ্য। এবছর বাংলাদেশে উৎপাদন বেশি হয়েছে—এমনটাই শোনা যাচ্ছে ঢাকার মহল থেকে। তাই ভারতীয় পেঁয়াজের প্রতি চাহিদা কমিয়ে দিল সরকার।
মহদিপুরের এক রফতানিকারকের ক্ষোভ, “আমরা অর্ডার পেয়ে নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনালাম। হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা! বন্দর সংলগ্ন গুদামে মজুত করতেই হল। এখন পচে যাচ্ছে। ছ’টাকা কেজিতে বিক্রি করছি বাধ্য হয়ে। চার লরি পেঁয়াজ আনিয়েছিলাম—ভারি ক্ষতি হল।”
বাংলাদেশের এক আমদানিকারকের কণ্ঠেও হতাশা, “আমরা তো ভারতীয় পেঁয়াজ নিতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারের নির্দেশে পারছি না। ছাড়পত্র দিলে সঙ্গে সঙ্গে আমদানি শুরু করব।”
রাজ্যের রফতানিকারকদের সংগঠনের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহার সুরও একই। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নিজেদের কৃষকের স্বার্থের কথা বলে হঠাৎ আইপি বন্ধ করেছে। এতে ভারতের ব্যবসায়ীদের প্রবল ক্ষতি হচ্ছে। মহদিপুরে মজুত পেঁয়াজ পচে নষ্ট। আমরা বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারে জানিয়েছি, আশা করছি সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের আইপি দেবে ঢাকা।”
সীমান্তের ছবিতে ক্ষোভ, উদ্বেগ আর অব্যবস্থার গন্ধ। ইউনূস প্রশাসনের অস্থির সিদ্ধান্তে ক্ষতির হিসেব বাড়ছে দুই দেশের মধ্যে{ এবং ঢাকার এই সিদ্ধান্তের জেরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েন আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।