অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ (General Observer) নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 12 March 2026 19:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে নিরাপত্তার (Election Security) ঘেরাটোপ আরও আঁটসাঁট করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সূত্রের খবর, ২০২৬-এর নির্বাচনে পর্যবেক্ষক বা ‘অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করতে চলেছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ (General Observer) নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। কিন্তু এ বারের বিন্যাস বদলে যাচ্ছে। প্রতিটি বিধানসভা পিছু এক জন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হলে, সেই সংখ্যাটা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি কেন্দ্রে আলাদা পর্যবেক্ষক থাকলে নজরদারি অনেক বেশি নিঁখুত হবে।
পুলিশি নজরদারিতেও বদল
শুধু জেনারেল অবজার্ভার নয়, ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। তবে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘পুলিশ অবজার্ভার’ নিয়োগের ক্ষেত্রে। গত বার (২০২১ সালে) রাজ্যে মোট ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন। এ বার সেই সংখ্যাটা কেবল বাড়াই নয়, বরং এলাকাভিত্তিক নিয়োগের ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন।
সূত্রের খবর, এ বার জেলা বা মহকুমার বদলে বিশেষ বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা ভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এমনকি কোনও কোনও স্পর্শকাতর বিধানসভা কেন্দ্রে এক জন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই স্পষ্ট যে, ভোট ঘিরে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।
এক নজরে ২০২১ বনাম ২০২৬-এর প্রস্তুতি:
বস্তুত, রাজ্যে ভোট ঘোষণা (West Bengal Assembly Election 2026) হওয়া অপেক্ষা মাত্র। তার আগে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার (Returning Officer) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বৃহস্পতিবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO)।
তালিকায় ন্যূনতম এসডিও র্যাঙ্ক অফিসার রয়েছেন। অর্থাৎ সিনিয়র র্যাঙ্কের আধিকারিক থাকলেও সব চেয়ে কম র্যাঙ্কিং রাখা হয়েছে এসডিও-দেরই। কাকতালীয় ব্যাপার হল, ডিএমডিসি (Deputy Magistrate & Deputy Collector) র্যাঙ্কের আধিকারিকরা এতদিন রিটার্নিং অফিসার হতেন। কিন্তু নতুন অর্ডারে ডিএমডিসি র্যাঙ্কের কাউকেই রাখা হয়নি। যাঁদেরই রাখা হয়েছে, তাঁরা সবাই সিনিয়র আধিকারিক।