দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন সেরো সার্ভেতে এবার দিল্লির জনসংখ্যার ২৯.১ শতাংশ মানুষের দেহে অর্থাৎ প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাসিন্দার শরীরেই করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি মিলেছে! অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা হয়ে সেরেও গিয়েছে। জুন মাসে প্রথমবার সেরো সার্ভের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল ২৩ শতাংশ মানুষের দেহে এই অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে, এবার সেই সংখ্যা আরও বাড়ল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিষয়টি একইসঙ্গে ভয়ের এবং স্বস্তির। এত মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি থাকার অর্থ, তাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাস নিজেদের শরীরে বহন করেছেন নিজেদের অজান্তেই। ফলে সংক্রমণও ঘটেছে তাঁদের থেকে। আবার উপসর্গ ছাড়াই এতজন সেরে উঠেছেন, এটাও একদিক থেকে সুসংবাদ।
দিল্লিতে জুন মাস থেকে এই সেরো সার্ভে শুরু করে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি)। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সেই রিপোর্ট সামনে এসেছে। অ্যান্টিবডি টেস্ট করার এই প্রক্রিয়াকেই বলে সেরো সার্ভে। এই পরীক্ষায় রক্তে আইজিজি অ্যান্টিবডি দেখে বলে দেওয়া যায় সেই ব্যক্তি সংক্রামিত হয়েছেন কিনা।
আজ, বৃহস্পতিবার দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, রাজ্যের মোট ৫৮ লাখ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। তবে একে এখনই হার্ড ইমিউনিটি বলতে রাজি নন চিকিৎসকরা। কারণ কোনও একটি এলাকায় অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টবডি তৈরি হয়ে গেলে তখনই তা হার্ড ইমিউনিটির পর্যায়ে পড়বে। জানা গেছে, পরবর্তী সেরো সার্ভে হবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে।
এইবার ১১টি জেলা থেকে ১৫ হাজার মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে চলেছে পরীক্ষা। দিল্লির দক্ষিণ-পূর্বের জেলায় ৩৩.২ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি শহরে ২৪.৬ শতাংশের শরীরে রয়েছে অ্যান্টিবডি।
পরিসংখ্যান বলছে, গত দু’সপ্তাহে রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের হার কমতির দিকে। ‘আর নম্বর’ তথা এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন রেট একের নীচে নেমে গেছে ০.৬৮। অর্থাৎ করোনা সক্রিয় রোগীর রোগীর সংখ্যা কমেছে, সেই সঙ্গেই কমেছে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার।