টিকিয়াপাড়ার পৃথা ঘোষের কথায়, “১ নম্বর থেকে ৩ নম্বরে যাওয়ার ব্রিজ নেই। মাঝের লাইনে দূরপাল্লার ট্রেন ছুটে যায়। প্রাণ হাতে করেই পার হতে হয়।”

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 25 August 2025 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুরারোগ্য ব্যাধি নয়, মহামারীও নয়। অথচ সংখ্যাটা রীতিমতো আতঙ্কজনক—শুধু হাওড়া ও শিয়ালদহ এসআরপি’র (Howrah-Sealdah SRP) আওতায় বছরে প্রায় আড়াই হাজার মৃত্যু। ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মূলত ফেন্সিংয়ের অভাব, নজরদারির ঘাটতি আর যাত্রীদের অসতর্কতা সামনে উঠে আসছে।
রেল পুলিশের হিসাবে, দমদম, বিধাননগর, নৈহাটি, বারাকপুর, বারাসত, টিকিয়াপাড়া, শেওড়াফুলি, বর্ধমান, ব্যান্ডেল—এমন বহু ব্যস্ত স্টেশনেই মাসে ১২–১৫ জন করে মারা যাচ্ছেন। প্ল্যাটফর্ম বদল বা বাইরে যাওয়ার জন্য সাবওয়ে বা ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও সেগুলি অনেক ক্ষেত্রেই প্ল্যাটফর্মের এক প্রান্তে। ফলে অন্য প্রান্তের যাত্রীদের কাছে সরাসরি লাইন টপকে যাওয়া সহজ পথ মনে হচ্ছে। আর সেখানেই ঘটছে বিপদ।
অভিযোগ, রেললাইনের ধারে ২০–২৫ ফুট দূরেই গজিয়ে উঠেছে ঝুপড়ি। দিনভর সেখানে আড্ডা, রান্নাবান্না বা আসা–যাওয়া করতে হয়। অনেকের ভরসা লাইন ধরে সরু রাস্তা। সামান্য অসতর্ক হলেই ঘটে যাচ্ছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
সোদপুরের অন্বেষা বিশ্বাস বললেন, “ট্রেন সামনে আসছে, তবুও মানুষ লাইন পারাপার করছে। অথচ পাশে ব্রিজ বা সাবওয়ে আছে। সচেতনতা আর কড়াকড়ি না বাড়ালে দুর্ঘটনা ঠেকানো অসম্ভব।”
শেওড়াফুলির বিতান বাগের বক্তব্য, “ওভারব্রিজ আছে ঠিকই, কিন্তু এত খাড়া সিঁড়ি যে অনেকে উঠতেই চান না। তাই লাইন টপকে যাওয়া।”
বারাকপুরের দিব্যেন্দু দাসের ক্ষোভ, “বিধাননগরে সাবওয়ে দু’টো পরস্পর যুক্ত নয়। রেল যদি একটু ভেবে যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থা করত, তবে ঝুঁকি নিতে হতো না।”
রেল পুলিশ ইতিমধ্যেই হাওড়া–শিয়ালদহ ডিভিশনে ৫০০-র বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ জায়গা চিহ্নিত করেছে। এক অফিসার জানালেন, “বারবার রেলকে বলেও কাজ হয়নি। ফের ফেন্সিংয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছি।” আরপিএফ অবশ্য দাবি করছে, তারা সতর্ক। তবে ফেন্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা মেনেছে তারাও।
টিকিয়াপাড়ার পৃথা ঘোষের কথায়, “১ নম্বর থেকে ৩ নম্বরে যাওয়ার ব্রিজ নেই। মাঝের লাইনে দূরপাল্লার ট্রেন ছুটে যায়। প্রাণ হাতে করেই পার হতে হয়।”
বারাসতের শুভ্র চট্টোপাধ্যায় বললেন, “ঘোষণা বদল হলেই ১ থেকে ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছুটতে গিয়ে লাইন টপকানো ছাড়া উপায় থাকে না।”
ফলে ফেন্সিং আর সচেতনতা কবে আসবে? উঠছে সেই প্রশ্ন। ততদিন এই মিছিল কি চলতেই থাকবে?