ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। তৃণমূল অভিযোগের আঙুল তুলেছে আইএসএফ-এর দিকে। যে হেতু ভাঙড় এলাকা কলকাতা পুলিশের অধীনে তাই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নগরপাল মনোজ ভার্মাও।

আরাবুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 11 July 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: "ভাঙড় মানেই গন্ডগোল। আশ্চর্য হচ্ছি এটা শুনে, যে ছেলেটি খুন হয়েছে সে আমার হাতে তৈরি। আমি জেলে যাওয়ার পরে ওরা সব শওকত মোল্লার (Saokat molla) সঙ্গেই দলটা করত।" বৃহস্পতিবার চালতাবেড়িয়া এলাকায় খুন হওয়া তৃণমূল নেতা রজ্জাক খাঁর (Rajjak Khan) ব্যাপারে আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam) শুরুটাই করলেন এই বলে। জানালেন, দল তাঁকে বহিস্কার করলেও অন্তরটা তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে। তিনি চান, যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সকলের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। এদিন রাজ্জাক খুনের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেই হাউহাউ করে কাঁদতে থাকেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা আরাবুল।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। তৃণমূল অভিযোগের আঙুল তুলেছে আইএসএফ-এর দিকে। যে হেতু ভাঙড় এলাকা কলকাতা পুলিশের অধীনে তাই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নগরপাল মনোজ ভার্মাও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভাঙড় থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন ওই নেতা। সেই সময়ে বাইকে করে বেশ কয়েক জন দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় সক্রিয় নেতা হিসেবেই পরিচিত রজ্জাক। শুধু তাই নয় বিধায়ক শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত তিনি।
এ ব্যাপারে টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে আরাবুল জানান, " আমি জেলে থাকার সময় শওকতের সঙ্গেই ওরা দলটা করত। আসলে আমরা সকলেই দলের ঘনিষ্ঠ। ভাঙড়ে কিছু হলেই খুন। কিছু হলেই মার। সেটা যাতে বন্ধ হয় তার জন্য প্রশাসনকে বলেছি।"
তিনি বলেন, "কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা তদন্ত করলেই জানা যাবে। আমাদের কলকাতা পুলিশ যথেষ্ট কাজ করছে। সতর্ক আছে। আমি কারও নাম করে বলার জায়গায় নেই। দলের বাইরে আছি। কোনও লবি আমাদের মধ্যে নেই। যেটাই হয়েছে, যারাই করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অ্যাকশনের আবেদন জানাচ্ছি।"
আরাবুলের কথায়, ভাঙড়ে আইএসএফ শক্তিশালী। মরিচার তিনটে বুথে তৃণমূল পরাজিত হয়েছে। বারবার আইএসএফ গন্ডগোল করে সেটা সকলেরই জানা। এর আগেও স্থানীয় মাঠে ঝামেলা হয়েছে। সেখানেই অনেকগুলো খুন হয়েছে। বলেন, "কারও নাম করব না। কিন্তু যেই করুক যারাই দোষী, তাদের ধরতেই হবে।"
বস্তুত, ইতিমধ্যেই ঘটনার শুরু হয়েছে তদন্ত। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ বাহিনী। স্থানীয় থানা সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।