দ্য় ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির গঙ্গাবিহার এলাকার ড্রেন থেকে আরও দু'টি দেহ উদ্ধার হল বৃহস্পতিবার সকালে। দু'টি দেহই সম্পূর্ণ পচে-গলে যাওয়ায় তাঁদের পরিচিতি জানা যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল অর্থাৎ বুধবারই চাঁদবাগের এক নর্দমা থেকে উদ্ধার হয় আইবি অফিসার ২৬ বছরের অঙ্কিত শর্মার মৃতদেহ। পুলিশি তদন্তে আশঙ্কা, আরও বেশ কিছু দেহ উদ্ধার হতে পারে গঙ্গাবিহারের ওই নর্দমা থেকে।
দিল্লির হিংসায় মৃত্যুমিছিল বেড়েই চলেছে। এই দু'টি দেহ উদ্ধারের পরে সরকারি ভাবে তা ৩৬। রবিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে অশান্তি। সিএএ বিরোধীদের সঙ্গে সিএএ পন্থীদের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বুধবার নিজে পথে নেমেছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। জনসাধারণকে শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাতিল করেছেন তাঁর কেরল সফর। যদিও বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠেছে, হিংসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি পুলিশ দাবি করেছিল, সংঘর্ষ খানিকটা সামাল দেওয়া গেছে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালেই ফের আরও দু'টি দেহ উদ্ধার হওয়ার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা আর বলা যাচ্ছে না। গোটা এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, গোয়েন্দারা মনে করছেন, বহু মানুষকে খুন করে ওই খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গা কবলিত এলাকায় আগে পুলিশ ঢোকার মতোই পরিস্থিতি ছিল না। ফলে একের পর এক মৃতদেহ বেরোচ্ছে সেখান থেকে। এছাড়াও জিটিবি হাসপাতালে আহত যে প্রায় ৩০০ জন রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর আশঙ্কাজনক। বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ।
উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে টানা চার দিন ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিধ্বস্ত ভজনপুরা, মৌজপুর, কারাওয়ালনগরে। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে নানা তরফে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৮টি এফআইআর হয়েছে। ১০৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের নিকটাত্মীয়কে দু’লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হিংসার ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছিলেন হর্ষ মান্দার। বিচারপতি এস মুরলীধর ও বিচারপতি তালওয়ান্ত সিংকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে সেই আবেদনের শুনানি হয়। আবেদনে ক্ষতিপূরণ ও সেনা নামানোর কথাও বলা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা। তাঁকে বিচারপতিরা বলেন, তিনি যেন দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দেন যে, উস্কানিমূলক কথা বলার জন্য তিন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক। ইতিমধ্যেই পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উস্কানি ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য তিন বিজেপির নেতার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটের মধ্যে এফআইআর দায়ের করতে হবে।
দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে দুটো হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। অ্যাডিশনাল কমিশনার (অপরাধ) মন্দীপ সিং রানধওয়া জানিয়েছেন, রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে ০১১-২২৮২৯৩৩৪, ২২৮২৯৩৩৫ এই নম্বর দুটোতে ফোন করা যাবে। তাছাড়া আপৎকালীন নম্বর ১১২ খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টা। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাঙ্গাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।