
শেষ আপডেট: 29 November 2019 18:30
১৯ নভেম্বর উত্তর সিয়াচেনে এমনই ভয়ানক তুষারধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় চার জওয়ান ও দুই মালবাহকের। সেনা সূত্রে জানানো হয়, বরফের নীচে চাপা পড়ায় হাইপোথার্মিয়া’য় আক্রান্ত হন সবাই। এই রোগে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত নামতে থাকে। শরীরে যে হারে তাপ উৎপন্ন হয়, তার চেয়ে দ্রুতগতিতে নামতে থাকে ঠান্ডায়। তাছাড়া ফ্রস্টবাইটও ছিল সবার। সেই কারণেই অনেক চেষ্টা করেও সেনা জওয়ান ও মালবাহকদের বাঁচানো যায়নি।
চারিদিকে ১৮ থেকে ২০ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়। আদিগন্ত বিস্তৃত বরফ। পশ্চিমতম প্রান্ত ছুঁয়েছে হিমালয়ের শেষ বিন্দুকে। সে দিক থেকেই বাঁক নিয়ে এই হিমবাহের পূর্ব দিকে এসে শেষ হয়েছে কারাকোরাম। পৃথিবীর দুই দুর্গমতম পর্বতশ্রেণির মাঝে ৭২ কিলোমিটার জুড়ে শুধুই বরফ।তাপমাত্রা কখনও পৌঁছে যায় মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সারা বছরে সিয়াচেনে প্রায় ৩০-৪০ ফুট গভীরতার বরফ পড়ে। অক্সিজেনের মাত্রা সমতলের প্রায় দশ শতাংশ। তাই পৌঁছনোর পরই কমতে থাকে ওজন। বমি হওয়ার পাশাপাশি খিদে থাকে না একেবারেই। খাওয়ার কথা বাদই দেওয়া গেল, বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
১৯৮৪ সাল থেকেই সিয়াচেনে অবস্থান করছে ভারতীয় সেনা। শত্রুর গোলা নয়, পৃথিবীর উচ্চতম এই যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাদের সব থেকে বড় শত্রু হল প্রতিকূল আবহাওয়া। গত তিন দশক ধরে শ’য়ে শ’য়ে সেনার মৃত্যু হয়েছে এই হিমবাহে। গুলি-বোমা-মর্টারের থেকেও প্রকৃতির খামখেয়ালিপনাই অভিশাপ হয়ে দেখা দেয় কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর সামনে। বহু মৃত্যু ডেকে আনে ভয়ঙ্কর তুষারঝড়। রয়েছে ক্রিভাসের আতঙ্কও। হিমবাহের কোনও কোনও অংশে গভীর এবং লম্বা ফাটল তৈরি হয় মাঝে মধ্যেই। সেই ফাটল অনেক সময় গ্রাস করে নেয় সর্বস্ব।