রাজ্য এসটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিতানচন্দ্র টুডুর দাবি, “যাঁরা কাউন্সেলিংয়ে যোগ দেননি, তাঁদের সার্টিফিকেটও ভুয়ো। এগুলো তাঁরা কোথা থেকে পেলেন, তদন্ত হোক। আমরা মনে করি, ১৭ জনের শংসাপত্রও মিথ্যা।”

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুয়ো তফশিলি উপজাতি শংসাপত্রের জোরে মেডিক্যালে ভর্তির অভিযোগে সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য (Fake Certificates)।
রাজ্য স্বাস্থ্যশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজন ৪৭ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১৭ জন প্রথম দফার কাউন্সেলিংয়ে অংশই নেননি (Avoided Counselling)। কিন্তু বাকি ৩০ জন (Student) সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন (Medical Seats)।
অভিযোগ অনুযায়ী, উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে ভুয়ো সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছেন ৩ জন, কল্যাণীর জেএনএম-এও ৩ জন। এনআরএস ও আর জি কর মেডিক্যালে ২ জন করে পড়ুয়া সুযোগ পেয়েছেন। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে জায়গা করে নিয়েছেন আরও ৩ জন। এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজেও ভুয়ো সার্টিফিকেটধারী পড়ুয়ার ভর্তি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বলেই আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজ্য এসটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিতানচন্দ্র টুডুর দাবি, “যাঁরা কাউন্সেলিংয়ে যোগ দেননি, তাঁদের সার্টিফিকেটও ভুয়ো। এগুলো তাঁরা কোথা থেকে পেলেন, তদন্ত হোক। আমরা মনে করি, ১৭ জনের শংসাপত্রও মিথ্যা।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্য আদিবাসী উন্নয়ন দফতর স্বাস্থ্যভবনকে জানায়, ভুয়ো সার্টিফিকেট জমা দিয়ে অন্তত ৪৫ জন পড়ুয়া ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭। এর পরেই স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের ইমেল পাঠিয়ে নির্দেশ দেন, সার্টিফিকেটধারীদের নাম দ্রুত পাঠাতে। কলেজগুলির তরফে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই তালিকা জমা পড়ে।
এদিকে, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিন পড়ুয়া। তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো শংসাপত্রের কারণে তাঁরা আসল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেডিক্যালে সুযোগ পাননি। আদালতে তাঁদের বক্তব্য—যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে মিথ্যা শংসাপত্রধারীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে ভর্তি হওয়া ওই ৩০ জনের ভবিষ্যৎ কী? তাঁদের কি চিহ্নিত করে বাতিল করা হবে ভর্তি? নাকি আরও দেরি হবে তদন্তে? শিক্ষামহল বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রাজ্যের মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে পৌঁছবে।