গত কয়েক দিনে চেকরমারি-সহ সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতের মোট ৮টি গ্রামে জন্ডিস ও লেপ্টোস্পাইরার পাশাপাশি কয়েক জনের স্ক্রাব টাইফাস ধরা পড়েছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 August 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজগঞ্জের ৮টি গ্রামে জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব নিয়েই যখন স্বাস্থ্য দফতরের মাথাব্যথা তুঙ্গে, তার মধ্যেই নতুন চিন্তার নাম লেপ্টোস্পাইরা। ইঁদুরবাহিত এই রোগ সচরাচর খুব বেশি দেখা না গেলেও, রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের চেকরমারি গ্রামে একসঙ্গে ১৫ জন আক্রান্তের খোঁজ মেলায় নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
গত কয়েক দিনে চেকরমারি-সহ সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতের মোট ৮টি গ্রামে জন্ডিস ও লেপ্টোস্পাইরার পাশাপাশি কয়েক জনের স্ক্রাব টাইফাস ধরা পড়েছে। রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে মঙ্গলবার দিনভর জন্ডিসের উপসর্গ নিয়ে ভিড় লেগেছিল আউটডোরে। আগে যাদের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে নতুন করে আক্রান্তের খবর মিলেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গ্রামেগঞ্জে চলছে স্ক্রিনিং ক্যাম্প।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার আরও ১০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী। গর্ভবতী মহিলারাও রয়েছেন আক্রান্তদের তালিকায়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে জন্ডিস-লেপ্টোস্পাইরায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আরও ১০টি বেড বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪৮ জনের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল, মঙ্গলবার আরও ৬৮ জনের ব্লাড স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ডাঃ অসীম হালদার জানিয়েছেন, চেকরমারিতে আড়াই লাখ মুরগির একটি বিশাল পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফার্মে মুরগির বিষ্ঠা জমে পাহাড়ের মতো হয়ে গেছে। সেখান থেকে অসংখ্য মাছি জন্ম নিয়ে আশপাশের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। ফার্মে ভিড় করছে প্রচুর ইঁদুরও।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের আশঙ্কা, ওই ইঁদুরের মূত্র থেকেই লেপ্টোস্পাইরা ও স্ক্রাব টাইফাস ছড়াতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। ডাঃ হালদারের কথায়, “সরকারি হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা হয়। রোগীরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।”