
শেষ আপডেট: 12 November 2018 18:30
গ্রেট ট্রেন রবারি, ১৯৬৩, লন্ডন[/caption]
ডাকাতি হল. কোটি কোটি টাকা লুঠ হল, অথচ টাকা খরচ হল না! কী রহস্য এর পিছনে? রহস্যের সমাধান করলেন তদন্তকারী অফিসাররাই। ডাকাতির ঘটনাটা ঘটেছিল ২০১৬ সালের অগস্ট মাসে। তার তিন মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বরে নোটবন্দির ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কালোটাকা, দুর্নীতি ও জাল নোট রুখতে ওই পদক্ষেপ করা হয়। বাতিল হয় ৫০০ ও ১০০০ টাকার সমস্ত নোট। এই নোটবন্দির গেরোতেই ফেঁসে যায় ডাকাতরা।
সালেম থেকে ট্রেনে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ৩৪২ কোটি টাকা যাচ্ছিল চেন্নাইয়ে। সালটা ২০১৬। ট্রেনের ৩টি বিশেষ কোচে ২২৬ টি বাক্সের মধ্যে রাখা ছিল সেই টাকা। চেন্নাইয়ের এগমোর স্টেশনে পৌঁছলে পুলিশ লক্ষ্য করে ট্রেনের ছাদে গর্ত। সন্দেহ হওয়ায় ট্রেনের কামরা পরীক্ষা করে দেখা যায় বেশ কিছু বাক্স ভাঙা ও কয়েক কোটি টাকা উধাও। ডাকাতির তদন্তে রেল পুলিশ সুপার বিজয়কুমারের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক দলও। তদন্ত করে দেখা যায় প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
চেন্নাই ক্রাইম ব্র্যাঞ্চ সূত্রে খবর, মোহর সিংহ ওই পাঁচ জনের দলের পাণ্ডা। ২০১৬ সালেই মধ্যপ্রদেশ থেকে ওই দল তামিলনাড়ুতে এসে ঘাঁটি গাড়ে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেল স্টেশন, ওভারব্রিজের আশপাশেই আস্তানা গেড়ে বসে তারা। সালেমের একাধিক সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে সংগ্রহ করা টাকা যে চেন্নাই-সালেম এক্সেপ্রেসে চাপিয়েই আরবিআই-তে পৌঁছে দেওয়া হবে এই খবর কোনও ভাবে জানতে পেরেছিল এই ডাকাত দল। সেই মাফিক আগে থেকেই ওঁত পেতেছিল তারা। তদন্তকারীদের কথায়, প্রথমে আয়োথিয়াপাট্টিনাম ও ভিরুদাচালাম স্টেশনের মাঝে ডাকাতির ছক সাজালেও পরে সেটা বদলে চিন্নাসালেম ও ভিরুদাচালাম স্টেশনকেই টার্গেট করা হয়। কারণ এই পথে কোনও হল্ট ছাড়াই টানা ৪৫ মিনিট দুরন্ত গতিতে চলে ট্রেন।
তদন্তকারীদের কথায়, নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল এই ডাকাত দল। প্রথমে চিন্নাসালেম থেকে ট্রেনে ওঠে দু’জন। একটু রাত হলে ট্রেনের পারসেল ভ্যানের ছাদে উঠে গর্ত করে। সেখান দিয়েই ভ্যানের ভিতর ঢুকে পড়ে তারা। কাঠের বাক্স ভেঙে টাকা বার করে ছ’টি লুঙ্গিতে বাঁধা হয় সেই টাকা। ভিরুদাচালামের ওভারব্রিজের কাছে সেই সময় অপেক্ষা করছিল বাকিরা। ট্রেনের মাথা থেকে টাকার পুঁটলি ছুড়ে দেওয়া হয় ওভারব্রিজের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের দিকে। স্টেশনে ঢোকার আগে ট্রেন গতি কমালে পারসেল ভ্যানের উপর থেকে লাফ দেয় দু’জন।
সব টাকাই পাঁচ জনের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছিল। কিন্তু, বিধি বাম। নোটবন্দির চক্করে কোনও টাকাই ছুঁতে পারেনি তারা।
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন