দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্র বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরু হল সোমবার। এদিনই স্পিকারকে হেনস্থা করার জন্য সাসপেন্ড হলেন ১২ জন বিজেপি বিধায়ক। অশান্তির সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। বিরোধী দলনেতা দেবেন্দ্র অবশ্য স্পিকারকে হেনস্থা করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই বিজেপি বিধায়করা ওবিসি কোটা নিয়ে হইচই শুরু করেন। অভিযোগ, স্পিকার ভাস্কর যাদব তাঁদের বক্তব্য পেশ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেননি। বিধানসভায় হইচই চরমে উঠতে স্পিকার অধিবেশন স্থগিত করে দেন।
পরে স্পিকার মিডিয়াকে বলেন, “বিরোধী নেতারা আমার কেবিনে চড়াও হন। তাঁরা আমার সম্পর্কে অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগ করেন। কয়েকজন নেতা আমাকে ধাক্কাধাক্কি করেন। সেখানে দুই প্রবীণ নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও চন্দ্রকান্ত পাতিল উপস্থিত ছিলেন।”
দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” পরে তিনি বলেন, “অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণির সংরক্ষণের জন্য আমরা ১২ জনের বেশি বিধায়ককে ত্যাগ করতে রাজি আছি।” বিজেপির বিধায়ক আশিস সেহলার বলেন, “১২ জন বিধায়ককে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সঞ্জয় কুটে, আশিস সেহলার, অভিমন্যু পাওয়ার, গিরিশ মহাজন, অতুল ভাটকালকার, পরাগ আলাভনি, হরিশ পিমপালে, রাম সাতপুতে, বিজয় কুমার রাওয়াল, যোগেশ সাগর, নারায়ণ কুচে এবং কৃতিকুমার বাংদিয়া।” আশিস বলেন, “ঠাকরে সরকার তালিবানের মতো আচরণ করছে। আমি এই আচরণের নিন্দা করছি। আমি বা অপর কোনও বিধায়ক স্পিকারকে হেনস্থা করেননি।”
কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার নানা পাটোলে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি এখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ভাস্কর যাদবকে বিধানসভার কার্যনির্বাহী স্পিকার করা হয়েছে। বিজেপি চায়, স্পিকারের পদটি তাদের দেওয়া হোক। যদিও বিধানসভায় মহারাষ্ট্র বিকাশ আগাদি জোটের ক্ষমতা বেশি।
এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রে জল্পনা শুরু হয়েছে, ফের বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধতে পারে শিবসেনা। রবিবার দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “শিবসেনা কখনই আমাদের শত্রু ছিল না।” পরে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বুঝে উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
প্রায় একই সুরে এদিন মন্তব্য করেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিবসেনা ও বিজেপির মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের মতো শত্রুতা নেই। তাঁর কথায়, “আমরা হিন্দুস্তান-পাকিস্তান নই। আমির খান আর কিরণ রাওকে দেখুন। আমাদের ব্যাপারটাও সেই রকম। শিবসেনা ও বিজেপির রাজনৈতিক পথ আলাদা। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্ব অটুট রয়েছে।”