স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক মালদহের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী, বাবা কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা, পঞ্চায়েত সদস্য। রয়েছে নির্মাণসামগ্রী, মাছ ও আমের বড়সড় ব্যবসা।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 20:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর কাণ্ডে (Durgapur Rape Case) ডাক্তারি পড়ুয়া ‘নির্যাতিতা’র সহপাঠী-বন্ধুকে (Victim's Classmate) ঘিরে রহস্য জট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। দিনের পর দিন জেরা সত্ত্বেও সন্দেহের ঊর্ধ্বে ওঠেননি তিনি, এমন ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীলকুমার চৌধুরী।
এবার সেই সন্দেহই সত্যি প্রমাণ করে হেফাজতের দ্বিতীয় দিন, বৃহস্পতিবার, অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারীরা। সেখানেই চলে দীর্ঘক্ষণ জেরা। একই সঙ্গে চলে ফরেন্সিক দল ও পুলিশের যৌথ তল্লাশি। আর তাতেই উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি জঙ্গল থেকে একটি অব্যবহৃত কন্ডোম উদ্ধার করা হয়েছে। তারও চেয়েও বেশি আলোড়ন ফেলেছে যুবকের হস্টেল ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া মোট ১১টি কন্ডোম (11 condoms)। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই উদ্ধার অভিযান তদন্তকে নতুন দিশায় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যে পাঁচ অভিযুক্তকে গণধর্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বয়ানের সঙ্গে ধৃত সহপাঠীর বক্তব্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। সেই অসঙ্গতিই যুবকের গ্রেফতারের অন্যতম কারণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক মালদহের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী, বাবা কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা, পঞ্চায়েত সদস্য। রয়েছে নির্মাণসামগ্রী, মাছ ও আমের বড়সড় ব্যবসা।
ঘটনাস্থল দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে মাত্র পাঁচশো মিটার দূরে। পিচের রাস্তা থেকে একটি সঙ্কীর্ণ মাটির রাস্তা জঙ্গলের দিকে গিয়েছে। সেখানেই ঘটে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের আশেপাশের আরও ৫০ মিটার এলাকা ঘিরে ফেলেছেন।
তদন্তকারীরা মুখে কিছু বলতে না চাইলেও, একের পর এক প্রমাণ হাতে আসায় মামলার মোড় যে ঘুরছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার ধৃতকে জেরা করে তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে।