হাইকোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশ বহাল রেখে সোমবার কাজ চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১ অগস্ট থেকে কাজ চালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। প্রত্যন্ত মানুষ যাতে সুবিধা পায়, সেটা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুরু হচ্ছে ১০০ দিনের কাজ
শেষ আপডেট: 27 October 2025 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (100 days work) ফের শুরু হচ্ছে। হাইকোর্টের (Kolkata High Court) নির্দেশ বহাল রেখে সোমবার কাজ চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১ অগস্ট থেকে কাজ চালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। প্রত্যন্ত মানুষ যাতে সুবিধা পায়, সেটা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের আবেদনে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রের আবেদনের শুনানিতে সাফ জানায়— “আপনারা নিজেরাই আবেদন তুলে নেবেন, না কি আমরা তা খারিজ করে দেব?” শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।
ফলে কার্যত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল থাকল। এখন রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে আটকে থাকা টাকা ছাড়তে হবে কেন্দ্রকে। তিন বছরের বেশি সময় পর ফের শুরু হতে চলেছে এই কর্মসংস্থান প্রকল্প।
গত তিন বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ রয়েছে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প। তৃণমূল সরকার বারবার অভিযোগ জানিয়েছে, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পের অর্থ আটকে রেখেছে। কেন্দ্রের দাবি, রাজ্যে এই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে— প্রকৃত শ্রমিকদের বঞ্চিত করে টাকার লেনদেন হয়েছে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই কারণেই অর্থ বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এর আগেই গত জুন মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের পক্ষে রায় দিয়েছিল। হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম কেন্দ্রকে বলেছিলেন, “যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, সেগুলি ২০২২ সালের আগের। সেই সময়ের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করুন, কিন্তু এখন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার কোনও কারণ নেই।”
সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু সোমবার সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে। এর ফলে মোদী সরকারকে এখন বাংলার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অর্থ ছাড়তেই হবে।
রাজ্য সরকারের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কলকাতা হাইকোর্ট যে অর্ডার দিয়েছিল যে ১ অগস্ট থেকে ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে হবে, সেই এসএলপি ডিসমিস করে দিয়েছে। ৩০ সেকেন্ডও সময় নেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। মানে ব্রিফ খুলতে খুলতে দেখি ডিসমিস হয়ে গেছে। সলিসিটর জেনারেল একটু চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু তাঁর কোনও কথাই শোনেনি কোর্ট। অর্থাৎ হাইকোর্টের জাজমেন্ট কারেক্ট ছিল। ছোট্ট জাজমেন্ট ভাল জাজমেন্ট। ছোট্ট কোথায় অনেক কথা বলা যায়। ছোট্ট কথায় কলকাতা হাইকোর্ট যা বলেছিল, দুর্দান্ত বলেছিল। এবার আবাস যোজনা আর যা আছে সেটা নিয়ে ফাইল করা হবে। মোট কথা, বিজেপির নেতারা বাংলার মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যে অসাংবিধানিক কাজ করেছেন, তা এখন প্রমাণিত।"