
শেষ আপডেট: 21 December 2023 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি কাণ্ডের তদন্তে নেমে অরণ্যভবনে বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কর্তা। সেখান থেকে ১০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতপত্র তথা ফিক্সড ডিপোজিটের সার্টিফিকেট পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গে পুরনো তারিখের ৮০০টি স্ট্যাম্প পেপারও পাওয়া গিয়েছে।
সূত্রের খবর, ঠিক এই ধরনের সংশয়ের ভিত্তিতেই বিধানসভায় প্রাক্তন শিল্প মন্ত্রী ও পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘর তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পুরনো দফতর থেকে মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ কম্পিউটার নিয়ে যেতে এসেছিলেন অফিসাররা। কিন্তু স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ঘরের তালা খুলে সেই কম্পিউটার নিয়ে যেতে দেননি।
এ ব্যাপারে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বাইরে কিছু বলেননি। তবে সূত্রের মতে, যেহেতু নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং রেশন দুর্নীতিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভূমিকা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে এবং বিষয়গুলি আদালতের নজরেও রয়েছে, তাই কোনও ঝুঁকি নেওয়া হয়নি।
বিধানসভা চলাকালীন প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী তথা বন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রোজই সভায় আসতেন। তবে অধিবেশন না থাকলে কদাচ বিধানসভায় আসতেন বন মন্ত্রী। বিধানসভায় তাঁর ঘরের ব্যবহার যে খুব ছিল তা নয়। বরং আকছার অন্যের ঘরে গিয়ে আড্ডা দিতেন এই পুরনো কংগ্রেসি নেতা।
তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রায় রোজই বিধানসভায় আসতেন। বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের অফিসে বরং তাঁর যাতায়াত কমই ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষা দফতরের অফিসারদের মাঝে মধ্যেই বিধানসভায় ডেকে পাঠাতেন পার্থবাবু। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টচার্যকেও বিধানসভায় এসে তাঁর ঘরে বসে মিটিং করতে দেখা যেত।
রাজ্য মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর সংখ্যার তুলনায় বিধানসভায় ঘরের সংখ্যা বেশি নয়। সেদিক থেকে দুটো ঘর আটকে রেখে সমস্যাই হচ্ছে। বিশেষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে ঘরে বসতেন অবস্থানগত কারণেই তার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে প্রবেশের আগে বাঁ হাতের ঘরটিতে বসতেন তিনি। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতারের পর থেকে গত প্রায় দেড় বছর ধরে সেই ঘর বন্ধ রয়েছে। সেই ঘরের তালা কবে খোলা হবে বিধানসভায় নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না কেউই।