পাঁচ মাসে দু'বার ভেঙে পড়ল একই বিমান! 'অপয়া' বোয়িং ৭৩৭-কে বসিয়ে দিচ্ছে দশ দেশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু ভারত নয়। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমানকে আপাতত অনির্দিষ্ট কালের জন্য বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রায় দশটি দেশ। এদের মধ্যে রয়েছে ইথিওপিয়া, চিন, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো এবং ক্যারিবীয় বিমান সংস্থাগুলি। শেষ কয়ে
শেষ আপডেট: 13 March 2019 05:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু ভারত নয়। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমানকে আপাতত অনির্দিষ্ট কালের জন্য বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রায় দশটি দেশ। এদের মধ্যে রয়েছে ইথিওপিয়া, চিন, ইন্দোনেশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মরক্কো এবং ক্যারিবীয় বিমান সংস্থাগুলি। শেষ কয়েক মাসের ইতিহাস দেখে অনেকেই মনে করছেন, এই বিমানটিই হয়তো 'অপয়া'!
পাঁচ মাসে দু’টি বিমান দুর্ঘটনা। একটি ২০১৮-র অক্টোবরে। ঘটনাস্থল ইন্দোনেশিয়া। বিমান ভেঙে পড়ে মৃত ১৮৯ জন। অন্যটি এই রবিবার, আন্তর্জাতিক সময় সকাল ৫টা ৪৪ মিনিটে। ইথিওপিয়ায়। এই বার মৃত ১৫৭ জন আরোহী। আর এই দু’ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি মার্কিন বিমান সংস্থা বোয়িংয়ের তৈরি। দু’টি ক্ষেত্রেই বিমানের মডেল নম্বর একই–বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট।
সূত্রের খবর, আজ পর্যন্ত বোয়িং যত রকম বিমান তৈরি করেছে, তার মধ্যে এই ৭৩৭ বিমানেরই চাহিদা আর উৎপাদন সব চেয়ে বেশি। জোড়া ইঞ্জিন, কম খরচে পরিচালনা, আর ওজনে হালকা-- এই তিনটি গুণের জন্যই বিশ্বের সমস্ত লো-কস্ট বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলির পছন্দ এই ৭৩৭ বিমান। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমান ৭৩৭ ম্যাক্স এইট ওই ৭৩৭ বিমানেরই আধুনিক এবং চতুর্থ প্রজন্মের সংস্করণ।
কিন্তু রবিবার ইথিওপিয়ার দুর্ঘটনা এবং তার পাঁচ মাস আগে ইন্দোনেশিয়ার বিমান দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে বেশির ভাগ দেশই আর ভরসা করতে পারছে না বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমানের উপর। যাত্রীদের প্রাণের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তারা।
এ বিষয়ে সবারই এক বক্তব্য। পরিষ্কার আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও, সব রকম যান্ত্রিক পরীক্ষায় পাশ করা সত্ত্বেও, রবিবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে বিমানটি। অক্টোবরের দুর্ঘটনাতেও এমনটাই হয়েছিল। অথচ কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি। তাই ইথিওপিয়ার বিমান দুর্ঘটনার সঠিক কারণ যত দিন না জানা যাচ্ছে, তত দিন ওই বিমান আর উড়বে না যাত্রী নিয়ে।
একই মত ভারতেরও। ভারত এখনই ওই বিমানগুলির পরিচালনা বন্ধ না করলেও সোমবার ডিজিসিএ বোয়িংয়ের কাছ থেকে এ বিষয়ে জবাবদিহি চেয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতে যে দু’টি বিমান পরিবহণ সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ এবং স্পাইসজেট ওই ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমান ব্যবহার করে, তাদের থেকেও প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে।
সোমবার অবশ্য ইথিওপিয়ার দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটির ব্ল্যাকবক্সের সন্ধান মিলেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্ল্যাকবক্স হাতে পাওয়ার পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তাঁরা দ্রুত চেষ্টা করছেন, ওই ব্ল্যাকবক্স থেকে যতটা সম্ভব বেশি তথ্য জোগাড় করতে।
জানা গিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এক বারের জন্য পাইলটের গলা শুনতে পাওয়া গিয়েছিল বলে জানিয়েছে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল। কিন্তু, তাকে ফিরে আসতে বলার নির্দেশ দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটির সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এ দিকে, এখনও চলছে ইথিওপিয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ। যদিও মৃত ব্যক্তিদের অনেকেরই পরিজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি এখনও।