
শেষ আপডেট: 8 October 2018 18:30

ঘটনাটা গত মাসের। পুলিশ জনিয়েছে, শিশুটির উপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে স্কুলেরই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেই সময় শিশুটির মা অসুস্থ ছিলেন। তাই ঘটনার খবর সামনে আসেনি। পরে থানায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যান্য অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানান। তার পরেই অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেফতারির দাবিতে এ দিন সকালে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তাঁরা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এক অভিভাবকের কথায়, ‘‘বনধের দিনে স্কুলের ১০ নম্বর ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছাত্রীটির সঙ্গে অসভ্যতামি করেছেন শিক্ষক। আমার মেয়েও ওই ক্লাসেই পড়ে। বাচ্চাটার মা সে সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাড়ি ফিরে সব শুনে আমাদেরকেও জানান তিনি। ’’
https://www.youtube.com/watch?v=NIM1oWOMmJM
ঘটনার বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, উত্তেজিত অভিভাবকরা স্কুলের ভিতরে ঢুকে আসে। অফিস ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনকে বাইরে বার করে দেয় পুলিশ। স্কুল গেটে অভিভাবকদের ঢুকতে বাধা দিলে দু’পক্ষের ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়।
উত্তেজিত অভিভাবকদের সঙ্গে প্রথমে পুলিশের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। সেটাই গড়ায় হাতাহাতিতে। পুলিশের অভিযোগ, স্কুলের ভিতর ঢুকে আসছিলেন অভিভাবকরা। তখনই তাঁদের থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা। ধস্তাধস্তি চলার সময়ে অভিভাবকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়া শুরু করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন অভিভাবকেরা। আগুন দেওয়ারও চেষ্টাও হয়।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ কমিটি তৈরি করে বিষয়টির খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। কিন্তু, সেটা হয়নি। এ দিনও স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রথম থেকেই অসহযোগিতা করছিলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। বিক্ষোভ থামাতে যথেচ্ছ ভাবে লাঠিচার্জও করে পুলিশ। রেয়াত করা হয়নি মহিলা অভিভাবকদেরও। পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হয়েছেন অনেকেই। মাথা ফেটেছে এক মহিলা অভিভাবকের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল পৌঁছেছে র্যাফ।
ডিসি এসইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘গুরুতর অভিযোগ এসেছে অভিভাবকদের কাছ থেকে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের দিক থেকে কোনও ভুল হলে সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।’’
অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে সমস্ত পুরুষ শিক্ষকদের অবিলম্বে বদলি করতে হবে। স্কুলে সিসিটিভির সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তো রয়েছেই।
https://www.youtube.com/watch?v=3UpWKUKWAQI
এলাকার কাউন্সিলর রবিন দে বলেছেন, ‘‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। সেটা কোনও মতেই বরদাস্ত করা যায় না। অভিভাবকদের দোষ নেই, এমন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রাখা যায় না।’’ অভিভাবকরা চাইলে শিক্ষামস্ত্রী তথা তৃণমূলের মহিসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কাউন্সিলরের কথায়, ‘‘যে মাস্টারমশাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার যাতে উপযুক্ত বিচার হয় সেটা দেখা হবে।’’