
আমাদপুর সমবায় সমিতি।
শেষ আপডেট: 23 June 2024 21:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: সমবায় সমিতির হিসেবে বিস্তর গরমিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়ালেন ব্লক সভাপতি ও বিধায়কের অনুগামীরা। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের জেরে রবিবার ছুটির দিনে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে।
ঘটনায় দু'পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনার জন্য শাসকদলের ব্লক সভাপতি ও বিধায়ক পরস্পরকে দুষেছেন।
বর্তমানে মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের নিয়ন্ত্রণাধীন আমাদপুর সমবায় সমিতি। সম্প্রতি সমবায়ের হিসেবে গরমিল নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন মেমারি-১ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলেন। এদিন আলোচনার জন্য় সমবায়ে বৈঠকে বসেছিল বিধায়ক ও ব্লক সভাপতির অনুগামীরা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আলোচনাকে কেন্দ্র করে দু-পক্ষর অনুগামীরা বাইরে জমায়েত করেছিলেন। আলোচনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরে দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে ও পরে তাঁরা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে লাঠি উঁচিয়ে ধাওয়া করে ও মৃদু লাঠিচার্জও করে।
ব্লক সভাপতির অনুগামী হাসমোতুল্লা মোল্লা ও মনমোহন দাসদের অভিযোগ, "আলোচনা চলাকালীন বিধায়কের লোকেরা আমাদের মারধর করেছে। ঘটনায় দু'জন জখম হয়েছেন।"
ব্লক সভাপতি নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "চাষিদের সমবায়, তাঁরা তো হিসেব চাইতেই পারেন। ১১ দফা দাবি নিয়ে স্থানীয় চাষীরা ডেপুটেশন দিয়েছিলেন। কিন্তু সমবায় পরিচালন সমিতি বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। উল্টে হিসেব চাওয়ায় মারধর করা হয়েছে।"
অভিযোগ উড়িয়ে মোমারির বিধায়ক মধূসুদন ভট্টাচার্যের দাবি, "মিটিং চলাকালীন অশালীন মন্তব্য করে উত্তেজনা তৈরি করেছিল ব্লক সভাপতির অনুগামীরা।"
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কটাক্ষের সুরে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব বলছেন, 'গায়ের জোরে বিরোধী শূন্য করতে চাইলে এমনটাই হবে।'