বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বয়ংক্রিয় রোবট। অণুজীবের সমান আকারের এই যন্ত্র চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে আনতে পারে বিপ্লব।

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্বয়ংক্রিয় রোবট
শেষ আপডেট: 16 December 2025 22:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজ্ঞানের জয়যাত্রা এবার এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাল। ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে তৈরি করেছেন বিশ্বের ক্ষুদ্রতম (World’s Smallest Robot) 'প্রোগ্রামেবল' এবং 'অটোনোমাস' (স্বয়ংক্রিয়) রোবট। আকারে ঠিক যেন একটি অণুজীবের মতো (০.২ x ০.৩ x ০.০৫ মিলিমিটার), অথচ এই খুদে যন্ত্রগুলো নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

১০,০০০ গুণ ছোট রোবট এই গবেষণার প্রধান গবেষক মার্ক মিসকিন বলেন, "আমরা স্বয়ংক্রিয় রোবটকে আগের তুলনায় ১০,০০০ গুণ ছোট করে ফেলেছি। এটি রোবট বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।" গত ৪০ বছর ধরে মাইক্রোস্কেলে রোবটের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা বিজ্ঞানীদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা এবার সমাধান সম্ভব হল।
কীভাবে কাজ করে এই রোবট?
এই রোবটগুলো চলে সৌরশক্তির সাহায্যে। আলোর স্পন্দন ব্যবহার করে এদের শক্তি দেওয়া হয় এবং প্রোগ্রাম করা হয়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি একটি অতি ক্ষুদ্র 'মস্তিষ্ক' বা কম্পিউটার এদের নিয়ন্ত্রণ করে। এটি একটি স্মার্টওয়াচের তুলনায় ১ লক্ষ গুণ কম বিদ্যুৎ খরচ করে কাজ চালাতে পারে।

জলের ঘনত্ব এই রোবটগুলোর জন্য আলকাতরার মতো মনে হয়। তাই এরা সরাসরি নিজেকে না ঠেলে চারপাশের জলের আয়নগুলোকে ধাক্কা দেয়, যা রোবটটিকে এগোতে সাহায্য করে। এই রোবটগুলোর কোনও নড়াচড়া করার যন্ত্রাংশ নেই, তাই এগুলো অত্যন্ত টেকসই এবং টানা কয়েক মাস সচল থাকতে পারে।
এই আবিষ্কারের ফলে চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে যে বড় বদল আসতে পারে, তা হল:
১. চিকিৎসাক্ষেত্রে: এই রোবটগুলো শরীরের ভেতরে ঢুকে সরাসরি কোষের ওপর নজর রাখতে পারবে। কোনও রোগ বা শারীরিক সমস্যা আছে কি না, তা সহজেই ধরা পড়বে।
২. অতি সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি: খুব ছোট এবং নিখুঁত ইলেকট্রনিক্স বা পার্টস বানাতে এই রোবটগুলো কারিগর হিসেবে কাজ করবে। মানুষের হাতের পক্ষে যা করা অসম্ভব, এই খুদে রোবটগুলো তা সহজেই করে দেবে।
৩. একসঙ্গে বড় কাজ করতে পারে: মাছের ঝাঁকের মতো অনেকগুলো রোবট মিলে একটা বড় কাজ শেষ করতে পারবে। মজার ব্যাপার হলো, একেকটি রোবটের একেক রকম নাম বা নম্বর (আইডি) থাকায় সবাইকে আলাদা আলাদা কাজ করার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, অত্যাধুনিক এই রোবটগুলোর একেকটি তৈরি করতে খরচ পড়বে মাত্র এক পয়সা (এক সেন্ট)। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই উদ্ভাবন আগামী দিনে প্রযুক্তির দুনিয়ায় বড় বদল আনতে চলেছে।