শুনে মনে হতে পারে, “এ আবার কোন মার্ভেল মুভির সিন?” নাকি ইল্যুশন (why pilots see three suns Himalayas)? কিন্তু বিষয়টি মোটেও ককপিটের আয়নায় প্রতিফলন বা চোখের ভুল এমনকী ইল্যুশন নয়।

শেষ আপডেট: 6 December 2025 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঠমান্ডু থেকে দিল্লি উড়ানের সময় হিমালয়ের (Himalaya) মাথা ছুঁয়ে উড়ে যায় বিমান। তখন নাকি মাঝেমধ্যেই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে পাইলটদের (Pilot)। এক নয়, দুই নয়… আকাশে একসঙ্গে তিনটে সূর্য (why pilots see three suns Himalayas)!
শুনে মনে হতে পারে, “এ আবার কোন মার্ভেল মুভির সিন?” নাকি ইল্যুশন (illusion)? কিন্তু বিষয়টি মোটেও ককপিটের আয়নায় (cockpit mirror) প্রতিফলন বা চোখের ভুল এমনকী ইল্যুশন নয়। এটি এক বিরল এবং চমৎকার ঘটনা, নাম - সানডগ (Sundog)। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে বলে পারহেলিওন (Parhelion)।
সানডগ আসলে কী? যা বলছে বিজ্ঞান
সানডগ তখনই ঘটে যখন, বরফের ছোট্ট হেক্সাগনাল বা ষড়ভুজ আকৃতির ক্রিস্টালের মধ্যে সূর্যালোকের রিফ্র্যাকশন বা প্রতিসরণ হয়। এগুলি থাকে আকাশের অনেকটা উচ্চতায় cirrostratus নামের বরফ মেঘের কণায়, যে মেঘ পুরো আকাশেই পাতলা সাদা ওড়নার মতো ছড়িয়ে থাকে।
৬ হাজারের বেশি উচ্চতায় কাইরোস্ট্রেটাস মেঘ পাতলা, স্বচ্ছ আস্তরণের মতো ছড়িয়ে থাকে। মাঝেমাঝেই যা চাঁদ বা সূর্যের চারদিকে একটা বলয় তৈরি করে। চাঁদের আলোতে একই ঘটনা হলে সেটাকে বলে মুনডগ (Moon Dog)।

এই বরফকণা কীভাবে 'তিনটি সূর্য'-এর এই 'ইল্যুশন' তৈরি করে?
বিজ্ঞান বলছে, বরফকণা এখানে ক্ষুদ্র প্রিজমের মতো কাজ করে, যা সূর্যের আলোকে কমপক্ষে ২২ ডিগ্রি কোণে বাঁকিয়ে দেয়। ফলে সূর্যের দুই পাশে দু’টি উজ্জ্বল আলোর বিন্দু তৈরি হয়। সেগুলো এতটাই উজ্জ্বল যে, মনে হয় তিনটি সূর্য পাশাপাশি ঝলমল করছে। যদি বরফকণা বড় হয় এবং পুরোপুরি অনুভূমিকভাবে সাজানো থাকে, তাহলেই সানডগের পারফেক্ট কন্ডিশন তৈরি! দিগন্তের কাছে 'তিনটি সূর্যে'র এই ঘটনা আরও ভাল বোঝা যায় যখন সূর্যের অবস্থান একটু নীচে থাকে।
হিমালয়ে সানডগ কেন এত বেশি দেখা যায়?
উচ্চতা থাকে যেখানে থাকে প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৪২ হাজার ফুট সেখানেই এমনটা দেখা যায়। নাসা (NASA)-র মতে, পৃথিবীর সানডগ দেখার সেরা জায়গাগুলির মধ্যে হিমালয় অঞ্চল এক নম্বরে, কারণ-

এভাবে তৈরিই হয় সানডগ বানানো লাক্সারি আইস ক্রিস্টাল! এ কারণে দিল্লি–কাঠমান্ডু বা হিমালয়ঘেঁষা রুটে উড়লে পাইলটদের কাছে এটি যেন প্রকৃতির ফ্রি লাইট-শো।
এইক্ষেত্রে বিমানের কি কোনও ঝুঁকি আছে? 'তিনটি সূর্য' কি পাইলটদের বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে?
বিজ্ঞানের যুক্তি, এতে চিন্তার কিছু নেই। সানডগের ঘটনায় ঝুঁকির কোনও সম্ভাবনা থাকে না।
তবে US FAA (Federal Aviation Administration)-এ ট্রেনিংয়ে শেখানো হয়, পাইলটরা সানডগকে যেন ভুল করে অন্য বিমান অথবা আসল সূর্য বলে ভুল না করে ফেলেন। কারণ তিনটি সূর্য দেখা গেলেও থার্মাল টার্বুলেন্স কিন্তু বাড়বে না!
প্রকৃতির 3-in-1 অফার!
ভাগ্যিস আকাশে মর্ত্যের মতো ট্র্যাফিক নেই! আকাশ, বরফকণা আর হিমালয় যখন মিলে যায়, তখনই তৈরি হয় এই ম্যাজিক্যাল থ্রি-সান ফেনোমেনন।পাইলটরা বলে থাকেন, এটাই নাকি তাঁদের দেখা 'সবচেয়ে ড্রামাটিক লাইট শো”।