বিশ্বে মাত্র ৫০ জনের শরীরে পাওয়া গেছে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ বা Rh-null গ্রুপ। জরুরি সময় রক্ত মেলানো প্রায় অসম্ভব হওয়ায় এই বিরল রক্ত ল্যাবেই তৈরি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুনিয়ায় মাত্র পঞ্চাশ জনের শরীরে পাওয়া যায় এই ব্লাডগ্রুপ। নাম— Rh-null, জনপ্রিয়ভাবে যাকে বলা হয় ‘গোল্ডেন ব্লাড’। এতই বিরল যে কেউ যদি জরুরি অবস্থায় রক্তের প্রয়োজন পড়ে, প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় মিল পাওয়া। আর সেই কারণেই এই ‘স্বর্ণসম’ রক্ত তৈরি করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। বিবিসি-র রিপোর্ট জানাচ্ছে, ল্যাবেই তৈরি হতে পারে এই বিরল রক্ত, যা ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষকে বাঁচাতে পারে।
কী এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’?
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা, যাঁদের রক্তকণায় একেবারেই Rh অ্যান্টিজেন থাকে না, তাঁদের রক্তই Rh-null নামে পরিচিত। অত্যন্ত বিরল এক জিনগত পরিবর্তনের ফলেই মানুষের শরীরে এমন রক্ত তৈরি হয়।
রক্তের ধরন নির্ধারণ করে অ্যান্টিজেন, অর্থাৎ লোহিত রক্তকণার উপর থাকা প্রোটিন ও সুগার, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সংকেত দেয়। সেই অ্যান্টিজেনই যখন অনুপস্থিত, তৈরি হয় ‘গোল্ডেন ব্লাড’।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ড. অটরক জানাচ্ছেন, “নামের কারণে মনে হতে পারে এটা সবচেয়ে বিশুদ্ধ বা নিরাপদ রক্ত। আসলে এর গুরুত্ব একটাই—এটা অবিশ্বাস্য ভাবে বিরল।”
Rh অ্যান্টিজেন না থাকায় এই রক্ত প্রায় সব রক্তগোষ্ঠীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই Rh-null-কে ধরা হয় ‘ইউনিভার্সাল ডোনার’। তবে বিপরীতটা সত্য নয়—Rh-null রক্ত কেবল একই রকম দাতার কাছ থেকেই নেওয়া যায়।
কেন এত ঝুঁকির?
বিশেষজ্ঞ অ্যাশ টয় বিবিসিকে বলেন, “দাতা রক্তে যদি এমন অ্যান্টিজেন থাকে যা আপনার শরীরে নেই, তবে শরীর সেই রক্তের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, যা দ্বিতীয়বার রক্ত নিলে প্রাণঘাতী হতে পারে।”
এই কারণেই জরুরি অবস্থায় Rh-null রোগীদের জীবন বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত।
ল্যাবে ‘গোল্ডেন ব্লাড’ তৈরির চেষ্টা
বিবিসি জানাচ্ছে, বিজ্ঞানীরা এখন স্টেম সেলকে রি-প্রোগ্রাম করে Rh-null লোহিত রক্তকণা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। গবেষকরা জিন সম্পাদনার মাধ্যমে সাধারণ রক্তকণার Rh অ্যান্টিজেন বাদ দেওয়ার দিকেও ভাবছেন।
২০১৮ সালে, ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশ টয় CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি ব্যবহার করে ল্যাবে Rh-null রক্ত তৈরি করেছিলেন। তবে বিতর্কিত হওয়ায় মানবদেহে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমতি নেই।
টয় এবং তাঁর দল এখন রিস্টোর ট্রায়াল চালাচ্ছেন, মানুষের শরীরে ল্যাব-তৈরি লোহিত রক্তকণা প্রবেশ করালে তার প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা যাচাই করতে। এই কণাগুলি তৈরি হচ্ছে দাতার স্টেম সেল থেকে।
ভবিষ্যতের রক্তব্যবস্থা বদলে দিতে পারে
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ল্যাবে তৈরি ‘গোল্ডেন ব্লাড’ জরুরি রক্তস্বল্পতা মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে যাঁদের বিরল রক্তগোষ্ঠী, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে জীবনদায়ী।
তবে বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, “এখনও পর্যন্ত কারও শরীর থেকে রক্ত নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও সস্তা পদ্ধতি। তাই রক্তদাতার গুরুত্ব কমবে না।”
তাঁরা আরও যোগ করেন, “কিন্তু যাঁদের বিরল রক্ত, আর দাতা হাতে গোনা, তাঁদের জন্য ল্যাবে রক্ত তৈরি করা গেলেদারুণ সাফল্য আসবে।”