চার দশকেরও বেশি সময় পরে ভারতের হয়ে আবার মহাকাশে পা রাখলেন এক বীরসেনা। এয়ার ফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS) পৌঁছে দিলেন ভারতের স্বাদ—আমরস, মুগ ডাল হালুয়া আর গাজরের হালুয়া।

শুভাংশু শুক্লা
শেষ আপডেট: 26 June 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চার দশকেরও বেশি সময় পরে ভারতের হয়ে আবার মহাকাশে পা রাখলেন এক বীরসেনা। এয়ার ফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে (ISS) পৌঁছে দিলেন ভারতের স্বাদ—আমরস, মুগ ডাল হালুয়া আর গাজরের হালুয়া। সেই ব্যবস্থা কে করে দিয়েছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
দীর্ঘ ১৫ দিনের এই মহাকাশ অভিযানের সময় নিজের ব্যাকপ্যাকে করে এই তিনটি রেডি-টু-ইট (Ready-to-Eat) খাবার নিয়ে গেছেন তিনি। এই বিশেষ ১০০ গ্রামের প্যাকগুলো তৈরি করেছে প্রতিরক্ষা জীবপ্রযুক্তি সংস্থা (DIBT), যা ইসরোর অন্তর্ভুক্ত একটি সংস্থা। এগুলি “বিশেষভাবে মহাকাশে খাদ্যগ্রহণের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে” প্রস্তুত, জানিয়েছেন সংস্থার প্রধান ডঃ আর কুমার।
এই খাবারগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ঘরের তাপমাত্রায় ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। এগুলিতে কোনও প্রিজারভেটিভ নেই। সংবেদনশীল থার্মাল প্রসেসিং এবং মাল্টিলেয়ার প্যাকেজিংয়ের মধ্যে এই খাবারগুলি প্যাক করা হয়েছে, যা NASA-র নিয়ম মেনে তৈরি।
এই তিনটি খাবার ব্যক্তিগতভাবে শুক্লার পছন্দ নয়, বরং গগনযান প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্ধারিত তালিকা থেকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডঃ কুমার। সেই তালিকা ISRO-কে দেওয়া হয়, এবং তারা এই তিনটি খাদ্য বেছে নেয়। শুধু নিজের জন্য নয়, শুভাংশু শুক্লা এই খাবারগুলি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে থাকা অন্যান্য অভিযাত্রীদের সঙ্গেও ভাগ করে খাওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছেন। প্রতিটি আইটেমের পাঁচটি করে প্যাক তিনি সঙ্গে নিয়েছেন।
লঞ্চের আগে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "স্পেসে প্রচুর খাবার থাকবে, কিন্তু আমি নিয়ে যাচ্ছি আমের শরবত, গাজরের হালুয়া আর মুগ ডালের হালুয়া"। নিত্যদিনের খাদ্য NASA সরবরাহ করলেও, গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুক্লা ISS-এ থাকাকালীন খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে মহাকর্ষহীন পরিবেশে মাইক্রোআলগির উপর গবেষণা—যা ভবিষ্যতের পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাঁর আরেকটি গবেষণায় ছয়টি ধরনের ফসলের বীজ মহাকাশে নিয়ে গিয়ে, মহাকর্ষহীনতার প্রভাবে জিনগত ও পুষ্টিগত পরিবর্তন পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে পৃথিবীতে তা চাষ করা হবে। বুধবার দুপুরে, ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে SpaceX-এর Crew Dragon মহাকাশযান Falcon-9 রকেটে চড়ে আকাশে পাড়ি দেন শুভাংশু শুক্লা। ঠিক সেখান থেকেই ১৯৬৯ সালে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নীল আর্মস্ট্রং। শুভাংশু হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় নাগরিক যিনি মহাকাশে পা রাখলেন, এর আগে ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মা গিয়েছিলেন।