অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণার পরিমাণ বেড়ে ৪,২৪৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২৪ লাখেরও বেশি মামলায় ঘটেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী ৭৮ বছর বয়সি নরেশ মালহোত্রা সম্প্রতি ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়েছেন। অগস্টের ১ তারিখ থেকে এক মাস ধরে ঘটে চলা এই অনলাইন স্ক্যামে তিনি তাঁর সারা জীবনের কষ্টোপার্জিত সঞ্চয় ২৩ কোটি টাকা খুইয়েছেন।
এই ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রতারক প্রথমে নরেশকে ফোন করে নিজেকে টেলিকম এক্সিকিউটিভ বলে পরিচয় দেয়। দাবি করে যে, তাঁর আধার ব্যবহার করে একটি নম্বর চালু করা হয়েছে। তা থেকে সন্ত্রাসমূলক কাজ চলছে। এরপর ফোনটি এমন ব্যক্তিদের হাতে চলে যায়, যারা নিজেকে মুম্বই পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কর্মকর্তা বলে দাবি করে। তারা নরেশকে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে বাধ্য করে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণার পরিমাণ বেড়ে ৪,২৪৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২৪ লাখেরও বেশি মামলায় ঘটেছে।
ডিজিটাল অ্যারেস্ট আসলে কী? এই নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। জেনে নিন বিস্তারিত -
ডিজিটাল অ্যারেস্ট এমন এক স্ক্যাম যেখানে প্রতারকরা সরকারি বা আইন-শৃঙ্খলা সংস্থার পরিচয় ধারণ করে, যেমন সিবিআই, ED বা পুলিশ। তারা ভুক্তভোগীকে ডিজিটালভাবে বন্দি করে। হোয়াটসঅ্যাপ, ভিডিও কল বা ফোন কলের মাধ্যমে। এবং মানুষটির সমস্ত কার্যকলাপ নজরে রাখে।
এ সব ক্ষেত্রে নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন?
• জেনে রাখুন, সরকারি সংস্থা কখনও ফোন বা ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে অপরাধে অভিযুক্ত করবে না।
• কখনও আপনার আধার, ব্যাঙ্ক ডিটেইল বা ওটিপি (OTP) কাউকে দেবেন না।
• মনে রাখতে হবে, যদি কেউ পুলিশের বা সরকারি পরিচয়ে ফোন করে টাকা দাবি করে, তা অবশ্যই প্রতারণা।
• স্থানীয় পুলিশ বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন (1930) এ রিপোর্ট করুন।
• পরিবার ও বন্ধুদের জানান এবং তাদের সাহায্য নিন।