প্রতারকরা টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টে ভাগ করে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলেছে, যাতে ধরা না পড়ে। এই কাজে তারা ৪,০০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে।
.jpg.webp)
ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 23 September 2025 20:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭৮ বছর ধরে তিল তিল করে পুঁজি সঞ্চয় করেছিলেন, শেষ বয়সে একটু আরাম ও শান্তিতে থাকতে। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেই পুঁজি হাতছাড়া হল এক প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মীর। আর সেই টাকার অঙ্কটা হাজার বা লক্ষে নয়, মোট ২৩ কোটি টাকা খুইয়েছেন প্রৌঢ় (Retired Banker Loses 23 Crore)। কী ঘটেছে তাঁর সঙ্গে, বিস্তারিত জানিয়েছেন তিনি, যাতে আর কেউ এই ফাঁদে জড়িয়ে না পড়ে।
প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী নরেশ মালহোত্রা জানিয়েছেন, প্রায় একমাস ধরে তাঁকে নিজের বাড়িতেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) করে রাখা হয়েছিল। তাঁকে বাইরে বেরোতে দেওয়া হত শুধু ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা জমা এবং প্রতারণাকারীদের হাতে টাকা তুলে দেওয়ার জন্য। এই প্রতারণাকারীরা নিজেদের বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী বলেন, "আমি আমার বাকি জীবন আরামদায়কভাবে কাটানোর জন্য সঞ্চয় করেছিলাম। কিন্তু এক মাসের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল (Retired Banker Loses 23 Crore), শুধু একটাই কারণ, আমি ভুল মানুষদের বিশ্বাস করেছি। আশা করি আমার কাহিনি শুনে অন্যরা সতর্ক হবে।"
দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (IFSO) ইউনিট, যা সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ, এখন এই মামলার তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতারণা হওয়া ২৩ কোটি টাকার মধ্যে ২.৬৭ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে জানা গেছে, প্রতারকরা টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টে ভাগ করে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তুলেছে, যাতে ধরা না পড়ে। এই কাজে তারা ৪,০০০-এরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে।
কীভাবে প্রতারণার সূত্রপাত
প্রৌঢ় জানান, "প্রতারকরা প্রথমে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে? আমি বললাম প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। তাঁরা পুরো টাকাটাই যাচাইয়ের অজুহাতে অন্য একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে বলল। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষে আমার টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং একজন নোডাল অফিসার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।"
তিনি আরও জানান, "প্রতিটি লেনদেনের পর প্রতারকরা ভুয়ো আরবিআই সার্টিফিকেট পাঠাত। এরপর তাঁর কাছে মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি (SIP) এবং অন্যান্য সম্পত্তির পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়।" যোগ করেন, "তারা বলেছিল প্রথমে আমার সম্পত্তির ২৫ শতাংশ যাচাই করা হবে, তারপর সিস্টেম অনুযায়ী বাকি। যদি আমি রাজি না হই, তাহলে আমার পরিবারকে সন্ত্রাস মামলায় অভিযুক্ত করা হবে বলে হুমকি দেয়।"
এই আতঙ্কের পরিস্থিতিতে তিনি বিভিন্ন ব্যাঙ্কে যান এবং প্রতারকদের কথামতো কাজ করতে থাকেন। ১৪ সেপ্টেম্বর, প্রতারণাকারীরা আবার ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার দাবি তুলেন, যা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের নামে পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাইভেট ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
নরেশবাবু বলেন, "ওরা বলল সুপ্রিম কোর্ট মামলার তদারকি করছে। আমি টাকা পাঠাতে অস্বীকার করে বলি, সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেব। আমি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণও করতে পারি। এরপরই ফোন বন্ধ হয়ে যায়।"
প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী আশাবাদী, তাঁর অভিজ্ঞতা অন্যদের সতর্ক করবে এবং কেউ আর এমন প্রতারণার শিকার হবে না।