অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংককর্মী সূর্যকান্ত থোরাতকে ভুয়ো কনফারেন্স কলের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকার প্রতারণা। অমিত শাহ ও অজিত ডোভালের সঙ্গে ফোনে থাকার ভুয়া দাবি। পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত EOW-এ।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 September 2025 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে ‘ভুয়ো কনফারেন্স কল’ করিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী সূর্যকান্ত থোরাত। ২০১৯ সালে তার এক আত্মীয় তাকে জানান যে, তার ছেলে কেন্দ্রীয় সরকারের গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন এবং একটি ‘বিশেষ মিশনে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এর জন্য কেন্দ্র থেকে তাদের ৩৮ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে সেই টাকা পেতে হলে কিছু প্রক্রিয়াকরণ ফি, আইনজীবীর খরচ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য উপহার বাবদ টাকা দিতে হবে। আত্মীয়টি সূর্যকান্তকে আশ্বস্ত করেন যে এই টাকাগুলো কাজ সম্পন্ন হলেই ফেরত দেওয়া হবে।
সূর্যকান্তের বিশ্বাস অর্জনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তার সঙ্গে ফোনে এমনভাবে কথা বলতেন, যেন অমিত শাহ এবং অজিত ডোভালও সেই কনফারেন্স কলে রয়েছেন। এতে বিশ্বাস করে সূর্যকান্ত ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৪ কোটি টাকার বেশি দেন। এই টাকা জোগাড় করতে তিনি তার ফ্ল্যাট, জমি, দোকান, গাড়ি এবং স্ত্রীর গয়না বিক্রি করেন। এমনকি প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) থেকেও টাকা তোলেন।
যখন সূর্যকান্ত তার টাকা ফেরত চান, তখন আত্মীয়টি তাকে বলেন যে, তার ছেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনে বিদেশে আছে। কয়েক মাস পর সূর্যকান্ত বুঝতে পারেন যে পুরো ঘটনাটি সাজানো ছিল। তখন তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
সূর্যকান্ত বলেন, “তারা আমাকে অমিত শাহ এবং অজিত ডোভালের সঙ্গে কথা বলিয়েছে। তারা কনফারেন্স কলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছিল যে পুরস্কার সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ হবে এবং চিন্তার কিছু নেই। পরে আমি বুঝতে পারি যে তারা কেউ ওই কলে ছিল না। আমি কখনও ভাবিনি আমার পরিবারের সদস্যরা এমন কাজ করবে।”
এই ঘটনায় শুভম সানিল প্রভালে, সুনীল বাবারাও প্রভালে, ওমকার সুনীল প্রভালে, প্রশান্ত রাজেন্দ্র প্রভালে এবং ভাগ্যশ্রী সুনীল প্রভালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত অর্থনৈতিক অপরাধ শাখাকে (Economic Offenses Wing) হস্তান্তর করা হয়েছে।