অসমে অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার কটাক্ষ—“বিদায় অনুপ্রবেশকারীরা, তোমাদের সময় শেষ।” শ্রীভূমি সেক্টর থেকে ৩৭ জন বাংলাদেশি ফেরত পাঠানো হল। নতুন নিয়ম ঘিরে বিতর্কও বাড়ছে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ নিয়ে চর্চা চলছেই। এবার ফের উত্তাপ বাড়ল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার পোস্টে। মঙ্গলবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখলেন— “বিদায় অনুপ্রবেশকারীরা, তোমাদের দিন শেষ। শ্রীভূমি সীমান্ত থেকে ৩৭ জন অবাঞ্ছিত অতিথিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁদের ‘নিজস্ব’ দেশে, বাংলাদেশে। আগেভাগেই জানিয়ে রাখছি—অসমে যাঁরা অবাঞ্ছিত, তাঁদের প্রত্যেককে একইভাবে বিদায় জানানো হবে।”
এই একাধিক বাক্যে হিমন্তর কটাক্ষ স্পষ্ট। “অবাঞ্ছিত অতিথি”, “নিজস্ব দেশ”—এসব শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তিনি কার্যত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। শুধু প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, রাজনৈতিক আক্রমণকেও মিশিয়ে দিয়েছেন এই পোস্টে।
Good bye infiltrators 👋🏼; your time's up in Assam!
37 uninvited guests have been PUSHED BACK to their own homeland in Bangladesh from the Sribhumi sector.
Just letting you all in advance — All unwanted guests will be treated with the same gesture. pic.twitter.com/zEPU85nNq7— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) September 23, 2025
গত ১০ সেপ্টেম্বর অসম মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, বিদেশি সন্দেহে কাউকে চিহ্নিত করা হলে মাত্র দশ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। এতদিন পর্যন্ত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সেই কাজ করলেও, এখন দায়িত্ব পড়েছে সরাসরি জেলা কমিশনারদের কাঁধে। তাঁরা সন্তুষ্ট না হলে ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা করে বন্দি শিবিরে পাঠানো হবে, সেখান থেকে করা হবে ‘পুশব্যাক’।
হিমন্তর সাম্প্রতিক পোস্টে তাই শুধু প্রশাসনিক সাফল্যের কথা নয়, বরং বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি—“বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন”—তারই প্রয়োগ দেখালেন তিনি। শ্রীভূমি সেক্টর থেকে ৩৭ জনকে ফেরত পাঠানোর খবর প্রকাশ করে তিনি সমর্থক শিবিরে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছেন, আর বিরোধী পক্ষকে চাপে ফেলেছেন।
REL
তবে এই নীতিকে ঘিরে প্রবল সমালোচনাও চলছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য মাত্র দশ দিন সময় দেওয়া কার্যত অমানবিক। বহু দরিদ্র ও নিরক্ষর মানুষের কাছে জন্মসনদ, ভোটার কার্ড বা সরকারি নথি হাতে রাখাই কঠিন। এ অবস্থায় প্রশাসনের একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে নিরীহ মানুষ বিদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী নির্বাচনের আগে বিজেপি সরকার কার্যত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে সীমারেখা ধরা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ এখন অনেক দ্রুত ও কঠোর। হিমন্তর কটাক্ষভরা পোস্ট তাই কেবল প্রশাসনিক বার্তা নয়, বরং ভোটের ময়দানে একপ্রকার নির্বাচনী অস্ত্র।