পশ্চিমবঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাকারী ক্ষুদ্র প্রাণী কোলেম্বোলার দু'টি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করল ZSI। ১৯৭৯ সালের পর এটাই প্রথম বড় সাফল্য!

'পরিবেশের বন্ধু' কোলেম্বোলা
শেষ আপডেট: 26 August 2025 16:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণ সংস্থা (ZSI)-র বিজ্ঞানীরা পশ্চিমবঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ক্ষুদ্র সন্ধিপদী প্রাণী কোলেম্বোলার দু'টি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্র্য গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নব আবিষ্কৃত প্রজাতি দু'টি হল 'Salina aurantiamaculata' এবং 'Salina pseudomontana'। এদের মধ্যে প্রথমটির নামকরণ করা হয়েছে এর উজ্জ্বল কমলা রঙের দাগের জন্য, আর দ্বিতীয়টির নামকরণ হয়েছে 'Salina montana' প্রজাতির সঙ্গে এর শারীরিক সাদৃশ্যের কারণে।
এই আবিষ্কারটি ZSI-এর অ্যাপটেরিগোটা (Apterygota) শাখার ডঃ গুরুপদ মণ্ডলের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে। তার দলের অন্য সদস্যরা হলেন শ্রীমতী পৃথা মণ্ডল এবং ডঃ সুরজিৎ কর। এই যুগান্তকারী গবেষণাটি ১৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক শ্রেণীবিন্যাস সংক্রান্ত সাময়িক পত্রিকা Zootaxa-তে প্রকাশিত হয়েছে।
ZSI-এর নির্দেশক ডঃ ধৃতি ব্যানার্জি গবেষক দলের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি কোলেম্বোলার পরিবেশগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "কোলেম্বোলা মাটির স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরা মাটির গঠন, পুষ্টি উপাদানের পুনর্ব্যবহার এবং জৈব পদার্থের পচন প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাদের ভূমিকা প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু পরিবেশগত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে তাদের গুরুত্ব অপরিহার্য।"
নতুন প্রজাতি দুটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এদের শরীরের লোমের বিশেষ বিন্যাস (চেটোট্যাক্সি), ভিন্নধর্মী দেহবর্ণ এবং পেটের কাঁটাযুক্ত অঙ্গ (ফারকুলা)-এর গঠন। এদের দুটি যৌগিক চোখ আছে এবং শরীরে কোনও আঁশ নেই। উভয় প্রজাতিই 'celebensis' গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
ডঃ গুরুপদ মণ্ডল এই আবিষ্কারকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন। কারণ, এর ফলে ভারতে 'Salina' গণের প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৭-তে। তিনি বলেন, "১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবার ভারতে 'Salina' প্রজাতির নতুন সন্ধান পাওয়া গেল। এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, এই ক্ষুদ্র প্রাণীগুলির বৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রে এদের অবদান বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।"