নিউরালিঙ্কের প্রথম রোগী নোল্যান্ড আরবঘ (Noland Arbaugh) জানান, কীভাবে ব্রেনে প্রতিস্থাপিত এই চিপ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে।

নিউরালিঙ্কের প্রথম রোগী নোল্যান্ড আরবঘ
শেষ আপডেট: 24 August 2025 23:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইলন মাস্কের কোম্পানি Neuralink যে মানুষের জীবন পাল্টে দিতে চলেছে, তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল আগেই। এবার তার প্রমাণ এল প্রকাশ্যে। নিউরালিঙ্কের প্রথম রোগী নোল্যান্ড আরবঘ (Noland Arbaugh) জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁর ব্রেনে প্রতিস্থাপিত এই চিপ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে।
১৮ মাস আগে হওয়া সফল অপারেশনের পর এখন তিনি গেম (Mario Kart) খেলতে, টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ করতে, এমনকী এয়ার পিউরিফায়ার চালু-বন্ধ করতে পারেন – কোনও শরীরের কোনও অঙ্গ না নড়িয়েই।
২০১৬ সালে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আরবঘের মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তাঁর কাঁধের নিচে সম্পূর্ণ অনুভূতি ও চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ২০২৪ সালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মাথার খুলি থেকে একটি কয়েনের আকারের অংশ কেটে সার্জিক্যাল রোবট Neuralink chip বসায়। এতে থাকা ১,০০০-রও বেশি ইলেকট্রোড ব্রেনের স্নায়ুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে Brain-Computer Interface (BCI) তৈরি করে।
এখন আরবঘ প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা ডিভাইসটি ব্যবহার করেন। তিনি অনলাইন ক্লাস করছেন, বই পড়ছেন, গেম খেলছেন। অ্যারিজোনার একটি কমিউনিটি কলেজে ভর্তি হয়েছেন এবং খুব তাড়াতাড়ি নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি পেশাদার বক্তৃতা ও লাইভ টক দেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন। এককথায় তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে নিউরালিঙ্ক।
সার্জারির আগে তাঁর অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “আমি সারারাত জেগে থাকতাম, সারাদিন ঘুমাতাম। কোনও উদ্দেশ্য ছিল না জীবনে, শুধু সময় কাটছিল।”
কিন্তু এখন? তাঁর কথায়, “আমার মনে হচ্ছে আমি আবার জীবনের সম্ভাবনা খুঁজে পাচ্ছি। এবার আমি সেটা পূর্ণ করার উপায়ও পাচ্ছি।”
প্রথম রোগী হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও তিনি ভীত হননি। আরবঘ বলেন, “যদি ব্যর্থও হত, আমি জানতাম ভবিষ্যতে কারও না কারও উপকারে লাগব।”
অবশ্য প্রথমটা এত সহজ ছিল না। অপারেশনের পর চিপের কিছু থ্রেড সরে গিয়ে প্রথমদিকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তবে Neuralink টিম পরবর্তীতে সমস্যার সমাধান করে।
হাসতে হাসতে আরবঘ বলেন, “প্রযুক্তিগতভাবে আমি এখন সাইবর্গ (কল্পবিজ্ঞানের মানুষ)। কারণ আমি এক মেশিনের সাহায্যে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ পেয়েছি, তাঁর কার্যকলাপে আমার জীবন চলছে। তবে, আমি এখনও নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবেই দেখি।”