স্মার্ট ডিভাইস (Smart Device) কি সত্যিই আগাম হৃদ্রোগের (Heart Disease) ইঙ্গিত দিতে পারে? চিকিৎসকদের মতামত বলছে, Wearable ও Implantable প্রযুক্তি মিলে বদলে দিচ্ছে হার্টের চিকিৎসা (Cardiology)। বাস্তব উদাহরণে পরিষ্কার, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে বাঁচছে জীবন।
_0.jpeg.webp)
কার্ডিওলজিস্ট ও ডিভাইস স্পেশ্যালিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমার।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 20:41
স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচ শুধু ফিটনেস ট্র্যাকার নয়, এখন তারা হয়ে উঠছে আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষার অন্যতম সহচর। হাঁটাহাঁটি, ওয়ার্কআউট বা ঘুমের সময় পরিমাপের বাইরেও এই স্মার্ট ডিভাইসগুলির আজ এক নতুন পরিচয়—হৃদ্রোগের ঝুঁকির পূর্বাভাস দেওয়া! কিন্তু সত্যিই কি ECG বা ECHO ছাড়াই হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিল সমস্যা আগাম চিহ্নিত করতে পারে এই গ্যাজেটগুলি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আলোচনা মণিপাল মেডিকা হাসপাতালের ডিরেক্টর অফ ক্যাথ ল্যাব, কার্ডিওলজিস্ট ও ডিভাইস স্পেশ্যালিস্ট ডক্টর দিলীপ কুমারের সঙ্গে।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, স্মার্ট ডিভাইস, বিশেষ করে স্মার্টওয়াচ বা স্মার্টফোন, ভিতরে থাকা উন্নত সেন্সরের মাধ্যমে হৃদস্পন্দনের গতিবিধি লক্ষ্য রাখে। আপনার হার্টবিট হঠাৎ কমে গেলে বা বেড়ে গেলে তা অ্যালার্ট দিয়ে জানায়। যদিও সরাসরি ‘হার্ট ফেলিওর’ বলার ক্ষমতা নেই এই যন্ত্রগুলির, তবুও তার পূর্বাভাস হিসেবে কাজ করতে পারে এগুলি। আর সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
দুটি প্রযুক্তির মধ্যেই বড় পার্থক্য রয়েছে। Wearable ডিভাইস, যেমন স্মার্টওয়াচ, ব্যান্ড—এগুলি সবাই ব্যবহার করতে পারেন। এগুলি মূলত পর্যবেক্ষণের কাজ করে। অন্যদিকে, Implantable ডিভাইস, যেমন পেসমেকার, CRT, AICD, এগুলি শরীরের ভিতরে বসানো হয় এবং হৃদযন্ত্রের নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য ব্যবহার হয়। এগুলি শুধু থেরাপি দেয় না, বরং প্রতি মুহূর্তে হার্টের গতিবিধি রেকর্ড রাখে। এমনকী, কোন রোগীকে কতদিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তার পূর্বাভাসও দেয় এই যন্ত্র।
স্মার্ট ডিভাইসের কাজ ইলেক্ট্রিক্যাল ইমপাল্স ও সেন্সরের সমন্বয়ে। যখনই হৃদযন্ত্রে অস্বাভাবিকতা ঘটে, ডিভাইসটি সেই সংকেত ধরে নেয়। এরপর তার অভ্যন্তরীণ অ্যালগরিদম সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে আপনাকে জানায়, আপনার শরীরে কোনও সমস্যা হতে পারে কিনা। যদিও শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়, তবুও একটি সতর্কতা হিসেবে এরা কাজ করে।
চিকিৎসকের কথায়, এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে স্মার্ট ডিভাইস সময়মতো সতর্কতা না দিলে হয়তো প্রাণ সংশয় তৈরি হতে পারত। যেমন, শিলিগুড়ির এক হৃদ্রোগীর শরীরে CRT ডিভাইস বসানো ছিল। তাঁর স্মার্ট ডিভাইস আগাম বার্তা দেয়, যে হৃদযন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। যদিও কলকাতা আসার আগেই তাঁর হার্ট ফেল করে, তবুও সেই ডিভাইসের কারণে সম্ভাব্য অনেক বড় বিপদ ঠেকানো গিয়েছিল।
এই প্রযুক্তি অনেকেই ভাবেন কেবল ধনী মানুষের জন্য। কিন্তু চিকিৎসকের বক্তব্য, "রোগ কোনও আর্থিক অবস্থা দেখে আসে না।" বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প এবং প্রাইভেট ইন্সিওরেন্সের সহায়তায় অনেক সাধারণ মানুষও এই সুবিধা পাচ্ছেন। পেসমেকার বা অন্যান্য ইমপ্লান্টেবল ডিভাইসও অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বা অল্প খরচে দেওয়া হচ্ছে।
সর্বোপরি, একটা স্মার্টওয়াচ হয়তো কোনও রোগ নির্ণয়ের চূড়ান্ত উপায় নয়, কিন্তু আগাম সতর্কতা দিতে পারে। আর সময়মতো চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারই পারে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য বিপদ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।