ভয়ঙ্কর স্মৃতি কি বারবার ফিরে আসে মনে? বিজ্ঞানীরা জানালেন, আমাদের মস্তিষ্কের এক ‘গোপন আস্তানায়’ লুকিয়ে থাকে সেই যন্ত্রণা!

মস্তিষ্কের 'গোপন আস্তানা'
শেষ আপডেট: 14 October 2025 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া কোনও ভয়াবহ মুহূর্ত বা দুর্ঘটনা কি আজও আপনাকে তাড়া করে? মনে হয় যেন সেই খারাপ স্মৃতিগুলো মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব? চাইলেও ভুলতে পারছেন না কিছুতেই। রাত হলেই আঁকড়ে ধরছে সমস্ত ভুলতে চাওয়া স্মৃতিরা। এক কি তবে সমাধান নেই? সমস্যা থাকবে, অথচ তার সমাধান থাকবে না, এ কী করে হয়!
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা অবশেষে সেই রহস্যের উন্মোচন করেছেন। এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিগুলি আমাদের মস্তিষ্কের এক গোপন অংশে জালের মতো লুকিয়ে থাকে, যা কেবল মানসিক স্বাস্থ্যই নয়, আমাদের রোজের চিন্তা করার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা, যা 'পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার' বা PTSD-এর চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।

হিপ্পোক্যাম্পাস নয়, প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে আসল আস্তানা
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হত যে, স্মৃতি তৈরির মূল কেন্দ্র হিপ্পোক্যাম্পাসেই এসব খারাপ স্মৃতি বাসা বাঁধে। তবে নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে দেখেছেন, ভীতিকর স্মৃতিগুলি লুকিয়ে থাকে মস্তিষ্কের যে অংশে মানুষ চিন্তা করে, অর্থাৎ প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে (Pre-Frontal Cortex বা PFC)।
স্নায়ুবিজ্ঞানী জুন-হাইয়ং চো এই বিষয়ে কিছু কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, যখনই কোনও ব্যক্তি তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কোনও স্থান বা ঘটনার সম্মুখীন হন, তখনই তাঁর মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সে লুকিয়ে থাকা সেই নির্দিষ্ট স্নায়ু কোষগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং একের পর এক ভীতিকর স্মৃতি বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা ও আবিষ্কার
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি পরিচালনার জন্য একটি ইঁদুরের মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
১. প্রথম ধাপ: ইঁদুরটিকে একটি বিশেষ জায়গায় নিয়ে গিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, এই সময় ইঁদুরটির মস্তিষ্কের একটি বিশেষ স্নায়ু সক্রিয় হয়।

২. দ্বিতীয় ধাপ: এর এক মাস পর ইঁদুরটিকে আবার সেই একই জায়গায় নিয়ে আসা হলে সেটি নিথর হয়ে যায় এবং চমকে ওঠে। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, ইঁদুরটির মস্তিষ্কের সেই নির্দিষ্ট স্নায়ু কোষ আবার সক্রিয় হয়েছে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে বৈদ্যুতিক শকের মতো অন্যান্য ভীতিকর স্মৃতিও মানুষের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সেই লুকিয়ে থাকে।

ক্ষতির দিকটি কী?
তবে এই প্রক্রিয়ার একটি বড় অসুবিধা রয়েছে। জুন-হাইয়ং চো জানিয়েছেন, যখন কোনও ভীতিকর স্মৃতি সক্রিয় হয়, তখন প্রি-ফ্রন্টাল মেমরির স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলস্বরূপ, ব্যক্তিটি চাইলেও অন্যান্য ভাল ঘটনা বা স্মৃতি মনে রাখতে পারে না। এই আবিষ্কার PTSD-এর চিকিৎসায় নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
এই গবেষণা আমাদের মস্তিষ্কের রহস্যের এক নতুন দরজা খুলে দিল, তা বলাই যায়। খারাপ স্মৃতিগুলো কেন সহজে মোছা যায় না, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখন স্পষ্ট।