মহাকাশে হতে চলেছে এক পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যার উদ্দেশ্য মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাবে রোগজীবাণুর আচরণ ও গঠনে কী পরিবর্তন আসে, তা বোঝা।

ছবি - স্পেস এক্স
শেষ আপডেট: 3 August 2025 20:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রু ১১ (Crew-11) মিশনের মহাকাশযান যখন পৃথিবীর মাটিকে বিদায় জানাল, তাতে চড়ে চুপিসারে রওনা দিল এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া, যেগুলো মানুষের শরীরে জটিল রোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম। মহাকাশে হতে চলেছে এক পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যার উদ্দেশ্য মাইক্রোগ্রাভিটির (microgravity) প্রভাবে রোগজীবাণুর আচরণ ও গঠনে কী পরিবর্তন আসে, তা বোঝা।
মার্কিন স্পেস-বায়োটেক সংস্থা SpaceTango-র সঙ্গে যৌথভাবে এই অভিনব গবেষণা উদ্যোগ চালাচ্ছে ইজরায়েলের শেবা মেডিকেল সেন্টার। মহাকাশের অন্যরকম এক পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া কীভাবে বৃদ্ধি পায়, তাদের জিনগত প্রকাশ ও ওষুধ প্রতিরোধী ক্ষমতা (antibiotic resistance) কেমন করে বদলায়, এই হল গবেষণার মূল লক্ষ্য।
কীভাবে চলবে গবেষণা?
মহাকাশে পাঠানো হয়েছে তিন ধরনের রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া – ই কোলাই (E. Coli), সালমোনেল্লা বঙ্গোরি (Salmonella bongori) এবং সালমোনেল্লা টাইফিমিউরিয়াম (Salmonella typhimurium)।
এই জীবাণুগুলিকে মাইক্রোগ্রাভিটি-তে বৃদ্ধির পরিবেশে রাখা হবে, তারপর -৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ফ্রিজ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। গবেষকরা তুলনা করে দেখবেন, পৃথিবীতে স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা জীবাণুর সঙ্গে মহাকাশে জন্মানো জীবাণুর কী কী জিনগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
কেন এমন গবেষণা জরুরি?
এর আগে নাসার (NASA) তরফে মহাকাশে ব্যাকটেরিয়ার আচরণ নিয়ে নানা পরীক্ষা হয়েছে, তবে এই মিশনের লক্ষ্য আরও গভীর ও সুনির্দিষ্ট। গবেষকরা আশা করছেন, মহাকাশে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত পরিবর্তনের খুঁটিনাটি ম্যাপ করতে পারলে ভবিষ্যতে পৃথিবীতে সংক্রামক রোগের বিস্তার আটকানো, এমনকী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর মোকাবিলার নতুন পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

গবেষণার প্রস্তুতিপর্বের মুহূর্ত<br>ছবি - স্পেস ট্যাঙ্গো
ড. ওহাদ গাল-মোর, যিনি শেবা মেডিকেল সেন্টারের ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ ল্যাবরেটরির প্রধান, জানিয়েছেন, “আমরা জানি যে মহাকাশের পরিবেশ ব্যাকটেরিয়ার আচরণ বদলে দেয়। ফলে তাদের বৃদ্ধি, জিন এক্সপ্রেশন এবং রোগ সৃষ্টি করার ক্ষমতা বদলাতে পারে। এই গবেষণায় আমরা প্রথমবার সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারব, মহাকাশে কিছু মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার জিনগত কার্যকলাপ কীভাবে বদলায়।”
মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্যের উপরে মাইক্রোগ্রাভিটির প্রভাব ইতিমধ্যেই বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। শরীরের পেশি দ্রুত ক্ষয়, ত্বকে র্যাশের সম্ভাবনা, এমনকী জিনগত আচরণেও পরিবর্তন - এসবই মহাকাশে মানুষের শরীরে লক্ষ্য করা গিয়েছে।
এই গবেষণা শুধু মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাই নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে মানুষের টিকে থাকার কৌশল গড়তেও সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে পৃথিবীতেই সংক্রমণ প্রতিরোধে নতুন রাস্তা দেখাতে পারে এই মহাজাগতিক জীবাণু-গবেষণা।